Hare Krishna

Hare Krishna
Welcome to ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ

Thursday, April 20, 2017

বিদ্যা, অবিদ্যা, ত্রৈবিদ্যা

বিদ্যা শব্দের আবিধানিক অর্থ অধ্যয়নজনিত জ্ঞান। সাধারণ অর্থে জ্ঞান বলতে বুঝায় বোধ, বুদ্ধি, অনুভব শক্তি, বোঝার বা বিচার করার ক্ষমতা। জ্ঞান আছে এমন ব্যক্তিকে বলা হয় জ্ঞানী। যে ব্যক্তি প্রকৃতি প্রাপ্ত বই, পুস্তক, পুঁথি ও শাস্ত্র পাঠ করে জ্ঞান লাভ করেন তাকে বলে শাস্ত্রজ্ঞ। বেদ যিনি ভালোরূপে বোঝেন বা জানেন তাকে বলে প-িত বা বেদজ্ঞ। আর যিনি ব্রহ্ম, আত্মা, পরমাত্মা ইত্যাদি ঈশ্বরতত্ত্ব সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন তাকে বলা হয় পরমাত্মিক জ্ঞানী বা তত্ত্বজ্ঞ।

জ্ঞান সম্পর্কে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন মান শূন্যতা, দম্ভহীনতা, অহিংসা, সহিষ্ণুতা, সরলতা, সদগুরুর সেবা, শৌচ, আত্মসংযম, ইন্দ্রিয় বিষয়ে বিরক্তি, অহংকার, জন্ম-মৃত্যু-জরা-ব্যাধিকে দুঃখ হিসেবে দেখা, পুত্র-স্ত্রী-গৃহের প্রতি আসক্তি রহিত হয়ে নিত্যের (ঈশ্বরের) প্রতি মনোনিবেশ করা, বঞ্চিত ও অবাঞ্ছিত বস্তু প্রাপ্তিতে সমভাবাপন্ন, জনবহুল স্থান বর্জন, নির্মল স্থান প্রিয়তা ও অনন্য নিষ্ঠা ও অপ্রতিহতা ভক্তির মাধ্যমে আমার সেবা করার নামই জ্ঞান। আর এ নিত্য, আধ্যাত্ম ও তত্ত্বজ্ঞান যিনি অনুসন্ধান করেন তিনিই জ্ঞানী। বাকিরা অজ্ঞানী। এতে স্পষ্ট যে, যে বিদ্যা আধ্যাত্ম, পারমাত্মিক, বা ঐশ্বরিক জ্ঞান দান করে না তা বিদ্যা নয়, অবিদ্যা।

অবিদ্যা শব্দের আবিধানিক অর্থ অজ্ঞান বা মায়া। মায়া ঈশ্বরের ছায়া, তবে ঈশ্বর থেকে পৃথক নয়। যেমন- একজন মানুষের ছায়া তার থেকে পৃথক নয়। এটা ওই মানুষটির প্রতিবিম্ব যা তার সঙ্গে সঙ্গেই থাকে এবং দেখতে উল্টো দেখায়। তাই একটি ছায়া দেখে তার সংশ্লিষ্ট মানুষটিকে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। ছায়া মরীচিকার ন্যায় মায়ারূপ এক প্রতিবিম্ব, আদর্শ রূপ নয়। ময়লা থাকলে যেমন আয়নাতে নিজের রূপ দেখা যায় না, ঠিক তেমনি মায়ায় আচ্ছন্ন ব্যক্তি ঈশ্বরের স্বরূপ দেখতে পায় না। এ মায়া বা অবিদ্যা পাঁচ প্রকার। যথা- তম, মোহ, মহামোহ, তামিস্র ও অন্ধতামিস্র।

তম: সত্ত্ব, রজ, তম এ তিনটি প্রকৃতিগত গুণ থেকে তম সবচেয়ে নিকৃষ্টতম। তম গুণ সম্পন্ন ব্যক্তিরা প্রমাদ (ভ্রান্তি বা বিমূঢ়তা) আলস্য ও নিদ্রা দ্বারা আচ্ছন্ন থাকে। তাই তারা কখনই ঈশ্বরকে জানতে পারে না।

মোহ : প্রাকৃতিক জিনিসের প্রতি প্রবল আসক্ত থাকার নাম মোহ।

মহামোহ : প্রত্যাশিত জিনিসটি না পাওয়া পর্যন্ত আসক্তি, পুনঃপুনঃ বৃদ্ধির নাম মহামোহ।

তামিস্র : আবিধানিক অর্থে যে ক্রোধ জন্মায় তাকে তামিস্র বলে। শাস্ত্র মতে এটি একটি নরক বিশেষ। নিশাচর বা দুঃখের স্থান।

অন্ধতামিস্্র : নিবিড় অন্ধকার। এটি একটি ঘোর নরক বিশেষ। অত্যন্ত দুঃখের স্থান।

এ পাঁচ প্রকার অবিদ্যা প্রকৃতিজাত। তাই অবিদ্যার আরেক নাম প্রকৃতি। এই প্রকৃতি ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং অনাদি। সব বিকার এবং গুণ প্রকৃতি থেকে জন্ম। তাই এ প্রকৃতি বা অবিদ্যা এক মায়ারূপ বন্ধন যার অবস্থান ঈশ্বর ও মানুষের মাঝখানে। এটি একটি অস্বচ্ছ পর্দাও বটে যার কারণে মানুষ ঈশ্বরকে দেখতে না পেয়ে মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে ভুল পথে চলে। তারা ক্রমশ অন্ধকার থেকে অন্ধকার জগতে প্রবেশ করতে করতে শেষ পর্যন্ত নীচকুলে (পশু-পাখির যোনিতে) জন্ম গ্রহণ করে।

ত্রৈবিদ্যা বলতে ঋক, সাম, যজু নামক তিনটি বেদকে বুঝায়। যে ব্রাহ্মণ এই তিনটি বেদ অধ্যয়ন করেছেন তাকে বলা হয় ত্রিবেদি। যারা এ তিনটি বেদ থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত তারা মনুষ্য সমাজে সম্মান ও প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। দুর্ভাগ্যবশত: বেদের অনেক বড় বড় পন্ডিতরা বৈদিক জ্ঞানের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারেন না। তাই তারা কেবল আনুষ্ঠানিকতাবশত বেদ অধ্যায়ন করেন এবং ইন্দ্র, চন্দ্র, আদি দেবতাদের উদ্দেশ্যে যজ্ঞ করার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত হয়। তাই বেদান্ত সম্পর্কে শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন- ‘আমিই হলাম ত্রিবেদিদের একমাত্র লক্ষ্য।’ তাই যথার্থ ত্রিবেদি শ্রীকৃষ্ণের চরণারবিন্দের শরণাগত হন এবং তার প্রীতি উৎপাদনের জন্য বিশুদ্ধ ভক্তিযোগে নিয়োজিত থাকেন। এ ভক্তিযোগ শুরু হয় হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র কীর্তন ও কৃষ্ণতত্ত্ব জানার প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে। যথার্থ ত্রিবেদিরা জানেন হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্রই অর্থাৎ নামযজ্ঞই হচ্ছে সব যজ্ঞের শ্রেষ্ঠ যজ্ঞ এবং একমাত্র শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন পুরুষোত্তম। তাই তাকে জানার মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানব জীবনের পরম সার্থকতা।

ঈশ্বর নিরাকার। তিনি যখন নিরাকার, তখন তাকে বলা হয় ব্রহ্ম। ব্রহ্ম সব জীব জগতের উপর প্রভূত্ব করেন। তাই ব্রহ্মের আরেক নাম ঈশ্বর। ঈশ্বর শব্দটির মানে হচ্ছে প্রভূ। এ ব্রহ্ম বা ঈশ্বর যখন আমাদের কৃপা করেন, জগতের মঙ্গল করেন, তখন তাকে বলা হয় ভগবান।

ব্রহ্ম সব প্রাণের উৎস স্বরূপ। তার থেকেই জগতের সৃষ্টি। তার মধ্যেই জগতের অবস্থান। আবার তিনিই আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই ধর্মগ্রন্থ উপনিষদে বলা হয়েছে ‘সর্বং খল্বিদং ব্রহ্ম।’ অর্থাৎ সবকিছু ব্রহ্ম বা ঈশ্বর।

সুতরাং ব্রহ্ম, ঈশ্বর, ভগবান দেব-দেবী এবং আত্মা আলাদা কিছু নয়। একই ঈশ্বরের ভিন্ন নাম ও পরিচয়। তাই শুধু দেব-দেবী কেন জীবকে সেবা করলেও ঈশ্বরের সেবা করা হয়।

নিরাকার হলেও সর্বশক্তিমান ঈশ্বর যে কোন আকার ধারণ করতে পারেন। তাই তিনি সাকারও। ঈশ্বরের ভিন্ন ভিন্ন গুণ বা শক্তি যখন ভিন্ন ভিন্ন আকার লাভ করে তখনই তাকে বলা হয় দেব-দেবী। এককথায় ঈশ্বরের সাকার রূপই হচ্ছে দেব-দেবী। ঈশ্বরের বিদ্যা, জ্ঞান ও ধী শক্তির সাকার রূপই হলো সরস্বতী। তাই সরস্বতী বিদ্যার দেবী। তিনি সবাইকে বিদ্যা দান করেন।

দেবী সরস্বতী যে বিদ্যা দান করেন তা ঈশ্বরেরই একটি গুণ। বেদ, পুরান প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থে দেব-দেবীর পূজা করার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে। তাই বৈদিক মতে দেব-দেবীর পূজা করলে তারা সন্তুষ্ট হন। দেব-দেবীরা সন্তুষ্ট হলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন। সুতরাং দেব-দেবীর পূজার মাধ্যমে ঈশ্বরেরই পূজা করা হয়।

প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে পূজার মাধ্যমে আমরা সরস্বতী দেবীকে আহ্বান করি। স্তবস্তুতির মাধ্যমে তার প্রশংসা করি। তার কাছে কাম্য বস্তু অর্থাৎ বিদ্যা প্রার্থনা করি-

‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে

বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহি নমহস্তুতো’

হে মহাভাগ সরস্বতী, বিদ্যাদেবী কমলনয়না, বিশ্বরূপা, বিশালাক্ষী আমাকে বিদ্যা দাও। তোমাকে নমস্কার।

বিদ্যাহীন ও জ্ঞানহীন ব্যক্তিরা মায়ামুখী। তাই তারা ঈশ্বর বিদ্বেষী। তারা ঈশরকে ভুলে গিয়ে মহামোহে আচ্ছন্ন হয়ে ঘোর নরকে প্রবেশ করে। কোনকালেই তারা ঈশ্বরকে পায় না।

হে মা সরস্বতী আমাদের বিদ্যা দান কর। আমরা যেন অহৈতুকী সেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের পরম ভক্ত হতে পারি। এ শুভলগ্নে তোমার কাছে এই একমাত্র মিনতি। কৃপা কর, দয়া কর মা এ অধম সন্তানদের। তোমর চরণে পুনঃপুনঃ অগণিত প্রণাম।
বিশ্বজিত পাল..

বৈজ্ঞানিক হিন্দু ধর্ম

অধ্যাত্মবিজ্ঞান, ব্রহ্মবিদ্যা, পরমার্থবিদ্যা, রাজগুহ্যযোগ, গুপ্তবিদ্যা (Isomeric Science), তত্ত্ববিদ্যা(Theosophy) সকলই একপ্রকার শাস্ত্র। এ শাস্ত্র সম্বন্ধে ম্যাডাম ব্ল্যাভিষিক স্বরচিত পুস্তকে কিঞ্চিৎ লিখে যান। এ শাস্ত্র বহুকাল হতে জনসাধারণের নিকট অবরুদ্ধদ্বার, এমন কি, এর অস্তিত্বের বিষয় কেহ অবগত নয়।
মহাত্মাগণের বিশ্বাস, অতিপ্রাচীনকালে বা সত্যযুগের প্রারম্ভে, যখন সুমেরুস্থ দেবভূমিতে স্থূলদেহবিশিষ্ট মানবের পরিবর্ত্তে সূক্ষ্মরূপধারী দেবগণ বিচরণ করেন তখন তাঁদের ভিতর অধ্যাত্মবিজ্ঞান দৈববাণীযোগে সৰ্ব্বপ্রথম প্রকটিত হয়। এই প্রাথমিক শ্রুতি(Primeval revelation) বা বেদ; আধুনিক বেদ ও প্রত্যেক বৈশেষিক ধর্মের ধর্মগ্রন্থ এর নকলমাত্র। গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন–
ইমং বিবস্বতে যোগং প্রোক্তবানহমব্যয়ম্‌।
বিবস্বান্মনবে প্রাহ মনুরিক্ষাকবেহব্রবীৎ।।
এবং পরস্পরাপ্রাপ্তমিমং রাজষয়ো বিদুঃ
স কালেনেহ মহতা যোগো নষ্টঃ পরন্তপ।
স এবায়ং ময়া তেহদ্য যোগঃ প্রোক্তঃ পুরাতনঃ।
ভক্তোহসি মে সখা চেতি রহস্য হ্যেতদুত্তমম্‌।।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা চতুর্থোঽধ্যায়ঃ- জ্ঞানযোগ।
“আমিই পূৰ্ব্বে এই অবিনাশি যোগশাস্ত্র (অধ্যাত্মবিজ্ঞান) সূৰ্য্যদেবকে বলি, সূৰ্য্যদেব মনুকে, মনু ইক্ষ্বাকুকে বলেন। এই প্রকারে রাজর্ষিগণ পরম্পরাগত অধ্যাত্মবিজ্ঞান অবগত হন। কিন্তু কালক্রমে সেই ৰিজ্ঞান নষ্ট হইয়া যায়। তুমি আমার একান্ত ভক্ত, প্রিয় ও সখা এবং ইহাও অত্যুত্তম রহস্য; অতএব সেই পুরাতন যোগশাস্ত্র আজ আমি তোমায় বলতেছি।”
সুত্র- বৈজ্ঞানিক হিন্দু ধর্ম।

পবিত্র বেদবাক্য

পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বড় মন্দির কোনটি? কোথায় অবস্থিত?

উত্তর:
অ্যাংকর ভাট (অর্থাৎ “শহরের মন্দির”, “অ্যাংকর” হল সংস্কৃত “নগর” শব্দের স্থানীয় উচ্চারণ) কম্বোডিয়ার অ্যাংকরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মধ্যযুগীয় মন্দির। সুবিশাল এই স্থাপনাটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ মন্দির।

১২শ শতাব্দীতে এই মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন রাজা ২য় সূর্যবর্মণ। তিনি এটিকে তাঁর রাজধানী ও প্রধান উপাসনালয় হিসাবে তৈরি করেন। তখন থেকেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান হিসাবে বিবেচিত। প্রথমদিকে হিন্দু মন্দির হিসাবে ব্যবহৃত হলেও পরে এটি বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়।

অ্যাংকর ভাট মন্দিরের নির্মাণকার্য শুরু হয় ১২শ শতাব্দীর প্রথমভাগে, রাজা ২য় সূর্যবর্মণের রাজত্বকালে (১১১৩-১১৫০)। মন্দিরটির আরাধ্যদেবতা ছিল বিষ্ণু।

রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের ফলশ্রুতিতে কম্বোডিয়ায় বৌদ্ধ ধর্মের প্রচলন ঘটে। ফলে ১৪শ বা ১৫শ শতাব্দীতে অ্যাংকর ভাট বৌদ্ধ মন্দিরে পরিণত হয়। বর্তমানে অ্যাংকর ভাটের মন্দিরটি কম্বোডিয়ার জাতীয় প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এটি দেশবাসীর গৌরব। ১৮৬৩ সালে প্রথম প্রবর্তনের পর থেকে কম্বোডিয়ার সব পতাকাতেই অ্যাংকর ভাটের প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। সারা বিশ্বে এটিই একমাত্র ভবন যা কোন দেশের পতাকায় প্রদর্শিত হয়েছে।

মূল মন্দিরটি শহরের অন্যান্য স্থাপনা হতে উঁচুতে অবস্থিত। এতে রয়েছে তিনটি পর্যায়ক্রমে উচ্চতর চতুষ্কোণ গ্যালারি, যা শেষ হয়েছে একটি কেন্দ্রীয় টাওয়ারে। মন্দিরের ভিতরে গ্যালারিগুলো যথাক্রমে রাজা, ব্রহ্মা, এবং বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে নিবেদিত।

ইদ্রপ্রস্থের ৪,১৭৫+ বছরের রাজাদের তালিকা

ইদ্রপ্রস্থের ৪,১৭৫+ বছরের রাজাদের তালিকা
ইন্দ্র প্রস্ত তথা আর্যাবর্তের রাজাদের ধারাবাহিক পরিচিতি ও রাজত্ব কালের পরিচয় তুলে ধরেছিলেন প্রাতঃস্মরণীয় জ্ঞানী দয়ানন্দ সরস্বতী। তিনি এই তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন - রাজপুতনার অন্তর্গত উদয়পুর মেদার রাজ্যের রাজধানী, চিতোরগড়ের শ্রিনাথদ্বার হতে প্রকাশিত এবং বিদ্যার্থী সম্মিলিত "হরিশ্চন্দ্র চন্দ্রিকা" এবং "মোহঞ্চন্দ্রিকা" নামক পাক্ষিক পত্রিকা হইতে। উক্ত পত্রিকাদ্বয়ের সম্পাদক মহাশয় ১৭৮২ বিক্রমাব্দে লিখিত একখানি গ্রন্থ তাহার কোন বন্ধুর নিকত হতে প্রাপ্ত হয়ে তাথেকে সংগ্রহ করে প্রচলিত ১৯৩৯ সালে মুদ্রন করেন।
ইন্দ্রপ্রস্থের শেষ রাজা ছিলেন শ্রী যশপাল। রাজা শ্রী যুধিষ্ঠির থেকে যশপাল পর্যন্ত আনুমানিক ১২৪ জন রাজা, মোট ৪,১৭৫ বছর ৯ মাস ১৪ দিন রাজত্ব করেছিলেন।
শ্রীমান যুধিষ্ঠির প্রভৃতি আনুমানিক ৩০ পুরুষ ১,৭৭০ বছর ১১ মাস ১০ দিন রাজত্ব করেছিলেন। নিম্নে তার বিবরণ তুলে ধরা হলোঃ
১। রাজা যুধিষ্ঠির – ৩৬ বছর ৯ মাস ১৪ দিন
২। রাজা পরীক্ষিত = ৬০–৮–২৫ (৬০ বছর-৮ মাস – ২৫ দিন)
৩। রাজা জনমেজয় = ৮৪–৭-২৩
৪। রাজা অশ্বমেধ = ৮২-৮-৩২
৫। দ্বিতীয় রাম = ৮৮-২-৮
৬। ছত্রমল = ৮১-১১-২৭
৭। চিত্ররথ = ৭৫-৩-১৮
৮। দুষ্টশৈল্য = ৭৫-১০-২৪
৯। রাজাউগ্র সেন = ৭৮-৭-২১
১০। শূরসেন = ৭৮-০৭-২১
১১। ভুবনপতি = ৬৯-৫-৫
১২। রণজিৎ = ৬৫-১০-০৪
১৩। ঋক্ষক = ৬৪-৭-৪
১৪। সুখদেব = ৬২-০-২৪
১৫। নরহরিদেব = ৫১-১০-০২
১৬। সুচিরথ = ৪২-১১-০২
১৭। শূরসেন (২য়) = ৫৮-১০-০৮
১৮। পর্বতসেন = ৫৫-০৮-১০
১৯। মেধাবী = ৫২-১০-১০
২০। সোনচীর = ৫০-০৮-২১
২১। ভীমদেব = ৪৭-০৯-২০
২২। নৃহরিদেব = ৪৫-১১-২৩
২৩। পূর্ণমল = ৪৪-০৮-০৭
২৪। করদবী = ৮৮-১০-০৮
২৫। অলংমিক = ৫০-১১-০৮
২৬। উদয়পাল = ৩৮-০৯-০
২৭। দুবনমল = ৪০-১০-২৬
২৮। দমাত = ৩২-০-০
২৯। ভীমপাল = ৫৮-০৫-০৮
৩০। ক্ষেমক = ৪৮-১১-২১
মুলত পাণ্ডু বংশের রাজত্ব এখানেই শেষ হয়ে যায়। রাজা ক্ষেমকের প্রধান মন্ত্রী বিশ্রবা ক্ষেমক রাজাকে নিহত করে সিংহাসন অধিকার করেন। তাঁর ১৪ পুরুষ ৫০০ বছর ৩ মাস ১৭ দিন রাজত্ব করেন। তাঁদের তালিকাঃ
১। বিশ্রবা = ১৭-০৩-২৯
২। পুরসেনী = ৪২-০৮-২১
৩। বীরসেনী = ৫২-১০-০৭
৪। ফবঙ্গশায়ী = ৪৭-০৮-২৩
৫। হরিজিৎ = ৩৫-০৯-১৭
৬। পরমসেনী = ৪৪-০২-২৩
৭। সুখপাতাল = ৩০-০২-২১
৮। কদ্রুত = ৪২-০৯-২৪
৯। সজ্জ = ৩২-০২-১৪
১০। ফমরচূড় = ২৭-০৩-১৬
১১। অমীপাল = ২২-১১-২৫
১২। দশরথ = ২৫-০৪-১২
১৩। বীরসাল = ৩১-০৮-১১
১৪। বীরসালসেন = ৪১-০০-১৪
রাজা বীরসাল সেনের প্রধান মন্ত্রী বীরমহা প্রধান তাঁহাকে হত্যা করিয়া রাজ্যাধিকার করেন। তাঁহার বংশ ১৬ পুরুষ ৪৪৫ বৎসর ৫ মাস ৩ দিন রাজত্ব করেন। তাঁদের তালিকা
১। রাজা বীরমহা = ৩৫-১০-০৮
২। অজিত সিংহ = ২৭-০৭-১৯
৩। সর্বদত্ত = ২৮-০৩-১০
৪। ভুবনপতি = ১৫-০৪-১০
৫। বীরসেন (প্রথম) = ২১-০২-১৩
৬। মহীপাল = ৪০-০৮-০৭
৭। শত্রুশাল = ২৬-০৪-০৩
৮। সঙ্গরাজ = ১৭-০২-১০
৯। তেজপাল = ২৮-১১-১০
১০। মানিক চাঁদ = ৩৭-০৭-২১
১১। কামসেনী = ৪২-০৫-১০
১২। শত্রুমর্দন = ০৮-১১-১৩
১৩। জীবনলোক = ২৮-০৯-১৭
১৪। হরিরাও = ২৬-১০-২৯
১৫। বীরসেন (২য়) = ৩৫-০২-২০
১৬। আদিত্যকেতু = ২৩-১১-১৩
প্রয়োগের রাজা ‘ধন্ধব’ মগধদেশের রাজা আদিত্যকেতুকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করেন। তাঁহার বংশ ৯ পুরুষ, ৩৭৪ বছর ১১ মাস ২৬ দিন রাজত্ব করেন। তাঁদের তালিকা
১। রাজা ধন্ধর = ৪২-০৭-২৪
২। মহর্ষি = ৪১-০২-২৯
৩। সনরচ্চী = ৫০-১০-১৯
৪। মহাযুদ্ধ = ২০-০৩-০৮
৫। দূরনাথ = ২৮-০৫-২৫
৬। জীবনরাজ = ৪৫-০২-০৫
৭। রুদ্রসেন = ৪৭-০৪-২৮
৮। অরীলক = ৫২-১০-০৮
৯। রাজপাল = ৩৬-০০-০০
সামন্ত মহান পাল রাজা রাজপালকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করেন। তিনি এক পুরুষে ১৪ বছর রাজত্ব করেন। তাঁর কোন বৃদ্ধি নাই।
রাজা বিক্রমাদিত্য অবন্তিকা (উজ্জায়নী) হইতে আক্রমণ চালাইয়া রাজা মহানপালকে হত্যা করে রাজ্যাধীকার করেন। তাঁহার বংশ ১ পুরুষ ৩৯ বছর রাজত্ব করেন। তাঁহার কোন বৃদ্ধি নাই।
শালিবাহনের মন্ত্রী সমুদ্রপাল, যোগীপৈঠনের রাজা বিক্রমাদিত্যকে হত্যা করে রাজ্যাধিকার করেন। তাঁহার বংশ ১৬ পুরুষ, ৩৭২ বছর, ৪ মাস ২৭ দিন রাজত্ব করেন। তাঁহাদের তালিকা-
১। সমুদ্রপাল = ৫৪-০২-২০
২। চন্দ্রপাল = ৩৬-০৫-০৪
৩। সাহায়পাল = ১১-০৪-১১
৪। দেবপাল = ২৭-০১-১৭
৫। নরসিংহপাল = ১৮-০০-২০
৬। সামপাল = ২৭-০১-১৭
৭। রঘুপাল = ২২-০৩-২৫
৮। গোবিন্দপাল = ২৭-০১-১৭
৯। অমৃতপাল = ৩৬-১০-১৩
১০। বলীপাল = ১৩-০৮-০৪
১১। মহীপাল = ১৩-০৮-০৪
রাজা মহাবাহু রাজ্য পরিত্যাগ করিয়া তপস্যার্থে বনে গমন করেন। ইহা শুনিয়া বঙ্গ দেশের রাজা আধীসেন ইন্দ্রপ্রস্থে আসিয়া নিজে রাজত্ব করিতে আরম্ভ করেন। তাঁর বংশ ১২ পুরুষ, ১৫১ বৎসর ১১ মাস ২ দিন রাজত্ব করেন। তাঁদের তালিকা –
১। রাজা আধীসেন = ১৮-০৫-২১
২। বিলাবলসেন = ১২-০৪-০২
৩। কেশবসেন = ১৫-০৭-১২
৪। মাধবসেন = ১২-০৪-০২
৫। ময়ূরসেন = ২০-১১-২৭
৬। ভীমসেন = ০৫-১০-০৯
৭। কল্যানসেন = ০৪-০৮-২১
৮। হরিসেন = ১২-০০-২৫
৯। ক্ষেমসেন = ০৮-১১-১৫
১০। নারায়ণসেন = ০২-০২-২৯
১১। লক্ষ্মীসেন = ২৬-১০-০০
১২। দামোদর সেন = ১১-০৫-১৯
রাজা দামোদরসেন তাঁর পাত্রমিত্রদিগকে অনেক কষ্ট দিতেন। এই নিমিত্ত তাঁর জনৈক পাত্রমিত্র দীপ্তসিংহ সৈন্য সংগ্রহ করিয়া তাঁহার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং তাঁকে যুদ্ধে নিহত করে স্বয়ং রাজত্ব করা আরম্ভ করেন। তাঁহার বংশ ৬ পুরুষ, ১০৭ বৎসর ৬ মাস ২ দিন রাজত্ব করেন। তাঁদের তালিকা –
১। দীপসিংহ = ১৭-০১-১৬
২। রাজসিংহ = ১৪-০৫-০০
৩। রণসিংহ = ০৯-০৮-১১
৪। নরসিংহ = ১৩-০২-২৯
৬। জীবনসিংহ = ০৮-০০-০১
কোন কারণ বশতঃ রাজা জীবনসিংহ তাঁহার সমস্ত সৈন্য উত্তরদিকে প্রেরণ করেন। বৈরাটের রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহান সেই সংবাদ পেয়ে জীবনসিংহকে আক্রমণ করেন এবং তাঁহাকে যুদ্ধে নিহত করিয়া ইন্দ্রপ্রস্থে রাজত্ব করা আরম্ভ করেন। তাঁর বংশ ৫ পুরুষ, ৮৬ বৎসর ০ মাস ২০ দিন রাজত্ব করেন। তাঁহাদের তালিকা –
১। পৃথ্বী রাজ = ১২-০২০১৯
২। অভয়পাল = ১৪-০৫-১৭
৩। দুর্জ্জব পাল = ১১-০৪-১৪
৪। উদয়পাল = ১১-০৭-০৩
৫। যশপাল = ৩৬-০৪-২৭
সুলতান শাহাবুদ্দিন ঘোরী গজনীর দুর্গা হতে রাজা যশপালকে আক্রমণ করেন এবং ১২৪৯ সালে তাঁকে প্রয়োগের দুর্গে বন্ধী করেন। অতঃপর সুলতান শাহাবুদ্দিন ইদ্রপ্রস্থে (দিল্লীতে) রাজত্ব করিতে আরম্ভ করেন। তাঁর বংশ ৫৩, ৭৪৫ বৎসর, ১ মাস ও ১৭ দিন রাজত্ব করেন। এ সম্পর্কে বহু তথ্য লিখিত আছে তাই আর উল্লেখ করছিনা।
ঈশ্বর সকল শুভ শক্তির ও ধর্মের ধারকদের মঙ্গল করুন।

শ্রীমদ্ভগবদগীতা ১৪/১৭

নরোত্তম দাস ঠাকুর-সাবরণ-শ্রীগৌরপাদপদ্মে পার্থনা

ইষ্টনিষ্ঠা

এবার ইষ্টনিষ্ঠা সম্বন্ধে আমাদেরকে আলোচনা করতে হইবে। যে ভক্ত হতে চায়, তাহার জানা উচিত, ‘যত মত তত পথ’—তাহার জানা উচিত, সনাতন বিভিন্ন ধর্মসম্প্রদায় সেই একই ভগবানের মহিমার বিভিন্ন বিকাশমাত্র।
নাম্নামকারি বহুধা নিজসর্বশক্তি-
স্তত্রর্পিতা নিয়মিতঃ স্মরণে ন কালঃ।
এতাদৃশী তব কৃপা ভগবন্ মমাপি
দুর্দৈবমীদৃশামিহাজনি নানুরাগঃ।। —শিক্ষাষ্টকম্, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য
‘হে ভগবান্, লোকে তোমাকে কত বিভিন্ন নামে ডাকে—লোকে তোমাকে বিভিন্ন নামে যেন ভাগ করে ফেলেছে। কিন্তু প্রত্যেকটি নামেই তোমার পূর্ণশক্তি বর্তমান। যে উপাসক যে নামে উপাসনা করতে ভালবাসে, তাহার নিকট তুমি সেই নামের ভিতর দিয়েই প্রকাশিত হও। তোমার প্রতি অন্তরাত্মার ঐকান্তিক অনুরাগ থাকলে তোমাকে ডাকবার কোন নির্দিষ্ট কাল নাই। তোমার নিকট এত সহজে যাওয়া যায়, কিন্তু আমার দুর্দৈব—তোমার প্রতি অনুরাগ জন্মিল না।’

শুধু তাই নয়, ভক্ত যেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা জ্যোতির তনয়গণকে ঘৃণা না করেন; এমন কি তাঁদের সমালোচনা-বিষয়েও যেন বিশেষ সতর্ক থাকেন; তাঁদের নিন্দা শোনাও তাঁর উচিত নয়। অবশ্য এমন লোক অতি অল্পই আছেন, যাঁরা উদার, সহানুভূতিসম্পন্ন, অপরের গুণগ্রহণে সমর্থ, আবার গভীর ভগবৎ-প্রেমসম্পন্ন। সচরাচর দেখা যায়, উদারভাবাপন্ন সম্প্রদায়গুলি আধ্যাত্মিক গভীরতা হারিয়ে ফেলে। ধর্ম তাদের নিকট একপ্রকার রাজনীতিক-সামাজিক-ভাবাপন্ন সমিতির কার্যে পরিণত হয়। আবার খুব সঙ্কীর্ণ সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিগণের নিজ আদর্শের প্রতি খুব ভালবাসা আছে বটে, কিন্তু তাদের এই ভালবাসার প্রতিটি বিন্দু অপর সকল সম্প্রদায়ের—যেগুলির মতের সাথে তাদের এতটুকুও পার্থক্য আছে—সেগুলির উপর ঘৃণা হতে সংগৃহীত হয়েছে। ঈশ্বরেচ্ছায় জগৎ যদি পরম উদার অথচ গভীরপ্রেমসম্পন্ন জনগণে পূর্ণ হয়ে যেত যাই, বড় ভাল হোত! কিন্তু এরূপ মহাত্মার সংখ্যা অতি বিরল। তথাপি আমরা জানি, জগতের অনেককে এই আদর্শে শিক্ষিত করা সম্ভব; আর ইহার উপায় এই ‘ইষ্টনিষ্ঠা’।

স্বামী বিবেকানন্দের বানী থেকে নেওয়া

বাংলা অনু্বাদ সহ প্রণাম মন্ত্রঃ

শ্রীগুরুর প্রণাম
ওঁ অজ্ঞানতিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ।।

অনুবাদঃ অজ্ঞতার গভীর অন্ধকারে আমার জন্ম হয়ে ছিল এবং আমার গুরুদেব জ্ঞানের আলোক বর্তিকা দিয়ে আমার চক্ষু উন্মীলিত করলেন। তাকেঁ জানাই আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি।

শ্রীকৃষ্ণের প্রণাম
হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধো দীনবন্ধো জগৎপতে।
গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্তায় নমোহস্তুতে।।

অনুবাদঃ হে আমার প্রিয় কৃষ্ণ, তুমি করুণার সিন্ধু, তুমি দীনের বন্ধু, তুমি সমস্ত জগতের পতি, তুমি গোপিকাদের ঈশ্বর এবং শ্রীমতি রাধারাণীর প্রেমাষ্পন্দ, আমি তোমার শ্রীপাদ্‌পদ্মে সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।

শ্রী রাধারাণীর প্রণাম
অনুবাদঃ তপ্তকাঞ্চন গৌরাঙ্গীরাধে বৃন্দাবনেশ্বরী।
বৃষভানুসূতে দেবী ত্বং নমামি কৃষ্ণপ্রিয়ে।।

অনুবাদঃ শ্রীমতি রাধারাণী, যার অঙ্গকান্তি তপ্ত কাঞ্চনের মতো এবং যিনি বৃন্দাবনের ঈশ্বরী, যিনি মহারাজ বৃষভানুর দুহিতা এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রেয়সী, তাঁর চরণকমলে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি জানাই।

শ্রী শ্রী তুলসীদেবীর প্রণাম
ওঁ বৃন্দায়ৈ তুলসীদেব্যৈ প্রিয়ায়ৈ কেশবস্য চ।
কৃষ্ণভক্তি প্রদে দেবী! সত্যবত্যৈ নমো নমঃ।।

অনুবাদঃ কেশবপ্রিয় বৃন্দাদেবী যিনি কৃষ্ণ-ভক্তি প্রদান করেন, সেই সত্যবতী তুলসী দেবীকে আমি বার বার প্রণাম নিবেদন করি।

শ্রীগৌরাঙ্গ প্রণাম
নমো মহাবদান্যায় কৃষ্ণপ্রেমপ্রদায় তে।
কৃষ্ণায় কৃষ্ণচৈতন্যনাম্নে গৌরত্বিষে নমঃ।।

অনুবাদঃ আমি পরমেশ্বর ভগবান শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই, যিনি স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ এবং অন্যান্য অবতার অপেক্ষা উদার, তিনি অত্যন্ত দুর্লভ কৃষ্ণপ্রেম প্রদান করেছেন, তাঁকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি জানাই।

শ্রী শ্রী পঞ্চতত্ত্ব প্রণাম
পঞ্চতত্ত্বাত্মকং কৃষ্ণং ভক্তরূপস্বরূপকম্‌।
ভক্তাবতারং ভক্তাখ্যং নমামি ভক্তশক্তিকম্‌।।

অনুবাদঃ ভক্তরূপ, ভক্তস্বরূপ, ভক্ত অবতার, ভক্ত এবং ভক্ত শক্তি এই পঞ্চতত্ত্বাত্মক শ্রীকৃষ্ণের শ্রীচরণ কমলে প্রণতি নিবেদন করি। (ভক্তরূপ-শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, ভক্তস্বরূপ-নিত্যানন্দ প্রভু, ভক্তাবতার-অদ্বৈত আচার্য প্রভু, ভক্ত-শ্রীবাস ঠাকুর, ভক্তশক্তি-শ্রীগদাধর পন্ডিত)

শ্রী শ্রী বৈষ্ণব প্রণাম
বাঞ্ছা কল্পতরুভ্যশ্চ কৃপাসিন্ধুর্ভ এব চ।
পতিতানাং পাবনেভ্য বৈষ্ণবেভ্য নমো নমঃ।।

অনুবাদঃ সমস্ত বৈষ্ণব ভক্তবৃন্দ, যাঁরা বাঞ্ছাকল্পতরুর মতো সকলের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে পারেন, যাঁরা কৃপার সাগর এবং পতিত পাবন, তাদের চরণ কমলে আমি আমার সশ্রদ্ধ প্রণতি নিবেদন করি।

পঞ্চতত্ত্ব মহামন্ত্র
(জয়) শ্রীকৃ্ষ্ণচৈতন্য প্রভু নিত্যানন্দ।
শ্রীঅদ্বৈত গদাধর শ্রীবাসাদি গৌরভক্তবৃন্দ।।

অনুবাদঃ শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, প্রভু নিত্যানন্দ, শ্রীঅদ্বৈত আচার্য, শ্রীগদাধর এবং শ্রীবাস আদি গৌরভক্তবৃন্দের জয় হোক।

হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।। —