Hare Krishna

Hare Krishna
Welcome to ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ

Saturday, June 8, 2019

৩৩ কোটি দেবতার সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা জানুন।

সনাতন ধর্ম্মে বহুল প্রচলিত একটা (মিসকনসেপসন) বা ভ্রান্ত ধারণা হল ৩৩কোটি দেবতা। ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয় হলে দেবতা ৩৩ কোটি হয় কি করে! প্রকৃত ব্যপারটা দেখে নেয়া যাক-

→ দুইটি দৃষ্টিকোন থেকে আলোচনা করব। একটা হল "কোটি" শব্দটির অর্থ নিয়ে। আরেকটা হল "দেবতা" শব্দটা নিয়ে।প্রথমেই কোটি শব্দটি নিয়ে বলি। কোটি অর্থ প্রচলিত বাংলায় Crore হলেও সংস্কৃত ভাষায় তার অর্থ"ধরন" বা "প্রকার"। আর বেদ এ দেবতা বলতে কোন শব্দ নেই। মুল সংস্কৃত শব্দটি হল দেব্ যার অর্থ শক্তি।অর্থাত্‍ঈশ্বরের ৩৩ধরনের শক্তি। এ বিষয়ে প্রথমেই যজুর্বেদ এর একটি মন্ত্র দেখে নেয়া যাক-

“ত্রয়স্ত্রিং শতাস্তুবত ভুতান্য শাম্যন্ প্রজাপতিঃ।

পরমেষ্ঠ্যধিপতিরাসীত্‍।।” -যজুর্বেদ ১৪.৩১

অনুবাদ:- যাঁহার প্রভাবে গতিশীল প্রকৃতি নিয়ন্ত্রিত হয়, প্রজার পালক, সর্বব্যপক ,অন্তরীক্ষে ব্যপ্ত, তাঁহার মহাভূতের তেত্রিশ প্রকার গুনের স্তুতি কর।

এখন তেত্রিশ ধরনের শক্তির ব্যখ্যা দেখা যাক -

→ শতপথ ব্রাহ্মন ১৪.৫ এ যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি শাকল্যকে বলছেন-দেব ৩৩টি যা পরমেশ্বরের মহিমার প্রকাশক।

৮ বসু, ১১রুদ্র, ১২আদিত্য, ১ইন্দ্র, ১প্রজাপতি = ৩৩ প্রকার , শতপথ ব্রাহ্মন।

→ মনুসংহিতা ও বৃহদারন্যক উপনিষদ এ এর বিস্তারিত বর্ননা দেয়া আছে।

বৃহদারন্যক উপনিষদ ৩.৯.২-১১

→ "বিদগ্ধ শাকল্য যাজ্ঞবল্ক্যকে জিজ্ঞেস করলেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব(শক্তি) কয়টি? যাজ্ঞবল্ক্য বললেন ৩৩টি।তখন শাকল্য আবার বললেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন তিনি আবার বললেন ৬টি।শাকল্য আবার বললেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন যাজ্ঞবল্ক্য উত্তর দিলেন ৩টি।আবার শাকল্য জিজ্ঞেস করায় তিনি উত্তর দিলেন দুইটি।তখন শাকল্য আবার জিজ্ঞেস করলেন,হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন দেড়টি।শাকল্য আবার জিজ্ঞেসকরলেন হে যাজ্ঞবল্ক্য দেব কয়টি?তখন তিনি বললেন একটি!তখন শাকল্য জিজ্ঞেস করলেন এই ৩৩টি দেব কি?

যাজ্ঞবল্ক্য বললেন -

৮ বসুগণ :-

অগ্নি

পৃথিবী

বায়ু

অন্তরীক্ষ

আদিত্য

দ্যৌ

চন্দ্র

নক্ষত্র

১১ রুদ্র হল :-

প্রান(নিশ্বাস) 

অপান(প্রশ্বাস) 

ব্যন

সমান

উদাম

নাগ

কুর্ম্ম

কৃকল

দেবদত্ত

ধনন্জয়

এবং জীবাত্মা

→ ১২ আদিত্য হল ১২মাস, ইন্দ্র, প্রজাপতি অর্থাত্‍ মোট ৩৩টি। ইন্দ্র হল বিদ্যুত্‍ আর প্রজাপতি হল যজ্ঞ(যে কোনশুভ কর্ম)। তখন শাকল্য আবার জিজ্ঞেস করলেন তাহলে ৬টা দেব কি কি? তখন তিনি উত্তর দেন - অগ্নি,পৃথিবী, বায়ু,অন্তরীক্ষ, আদিত্য,দ্যুঃ। তখন তিনি বললেন তাহলে ৩টি দেব কি? তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন তিনলোক (ভ্যু,দ্যু,অন্তরীক্ষ)।

তারপর শাকল্য আবার বললেন সেই দুইটি দেব কি কি? খাদ্য এবং প্রান-উত্তর দিলেন যাজ্ঞবল্ক্য। তখন আবার শাকল্য জিজ্ঞেস করলেন সেই দেড়টি কি? তখন যাজ্ঞবল্ক্য উত্তর দিলেন যিনি প্রবাহিত হন। তখন শাকল্য বললেন সেই এক এবং অদ্বিতীয় যিনি প্রবাহিত হন তাঁকে আপনি কিভাবে দেড় বললেন? তখন যাজ্ঞবল্ক্য বললেন যখন তা প্রবাহিত হয় তখন ই সবকিছু উত্‍পন্ন হতে শুরু করে। তাহলে কে সেই এক? প্রান!!! হ্যঁ প্রান (পরমাত্মা) সেই এক এবং অদ্বিতীয় দেব যাকে সবাই তত্‍বলে জানে"


অসাধারন এই শৈল্পিক ও গভীর দার্শনিক কথোপকথন ব্যখ্যা করছে সেই এক এবং অদ্বিতীয় পরব্রহ্ম থেকে সবকিছু উত্‍পন্ন হতে শুরু করে। একে একে অগ্নি, বায়ু, আদিত্য, ভু, দ্যু এবং অন্তরীক্ষলোক, বিদ্যুত্‍শক্তি সবকিছুই তার থেকে তৈরী হয় যাদেরকে ৩৩টি ভাগে ভাগ করা হয় এবং এদেরকে বলা হয় দেব অর্থাত্‍ শক্তি। আর দিনশেষে শক্তি একটাই যা থেকে সকল কিছু আপাতশক্তি প্রাপ্ত হয়। আর এই শক্তিই এক এবং অদ্বিতীয় পরমাত্মা। আশা করি এর মাধ্যমে দেবতা এবং ৩৩কোটি দেবতা সম্বন্ধে আপনাদের ভুল ধারনা দুর হবে।।। 

" ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি "

Tuesday, June 4, 2019

সনাতন ধর্মের মূল গ্রন্থসমূহ কী কী?

★বেদ এ মন্ত্র সংখ্যা- ২০,৩১৭ (যদিও এ বিষয়ে কিছু কিছু মতভেদ আছে)
১) ঋগবেদ. মন্ত্রসংখ্যা- ১০,৫৫২
২) সামবেদ. মন্ত্রসংখ্যা- ১,৮৯৩
৩) যজু:বেদ. মন্ত্র সংখ্যা- ১৯৭৫
৪) অথর্ববেদ. মন্ত্রসংখ্যা- ৫,৯৭৭।

★উপবেদ- ৪টি
১) আয়ুর্বেদ,
২) ধনুর্বেদ,
৩)গন্ধর্ববেদ,
৪)অর্থশাস্ত্র।

★বেদাঙ্গ- ৬ টি
১) শিক্ষা- পাণিনী
২) কল্প- বিভিন্ন ঋষি সম্প্রদায়
৩) ব্যাকরণ- পাণিনী
৪) নিরুক্ত- যাস্ক
৫) ছন্দ- পিঙ্গলাচার্য
৬) জ্যোতিষ- গর্ণ।

★বেদের উপাঙ্গ- ৪টি
১)পুরাণ,
২) মীমাংসা,
৩) ন্যায়,
৪)ধর্মশাস্ত্র।

★বেদের জ্ঞানকাণ্ড- ২টি
১) আরণ্যক,
২) উপনিষদ।

★আরণ্যক - ৪ টি
১) ঐতেরেয়,
২) কৌষীতকী,
৩) শতপথ ব্রহ্মণ,
৪) ছান্দোগ্য।

★উপনিষদ ১০৮টি, তবে ১২টি মুখ্য
১) বৃহদারণ্যক মন্ত্র- ৪৩৫,
২) ছান্দোগ মন্ত্র- ৬৬৮,
৩) তৈত্তিরীয় মন্ত্র- ৬৮,
৪) ঐতরেয় মন্ত্র- ৩৩,
৫) ঈশোপনিষ মন্ত্র- ১৮,
৬) কেন উপনিষদ- ৩৫,
৭) কঠো উপনিষদ- ১১৯,
৮) প্রশ্ন উপনিষদ- ৬৭,
৯) মুণ্ডকোপনিষদ- ৬৫,
১০) মাণ্ডুক্যউপনিষদ- ১২,
১১) শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ মন্ত্র - ১১৩,
১২) কৌষীতকী উপনিষদ মন্ত্র. - ৪৯।

★ষড় দর্শন- ৬টি
১) সাংখ্যা দর্শন - মহর্ষি কপিল,
২) যোগ দর্শন- পাতঞ্জলি,
৩) ন্যায় দর্শন - গৌতম,
৪) বৈশেষিক দর্শন-কণাদ,
৫) পূর্ব মীমাংসা - জৈমিনী,
৬) উত্তর মীমাংসা বেদান্ত দর্শন- ব্যাসদেব।

★মীমাংসা - ২ টি.
১) কর্ম মীমাংসা,
২) ব্রহ্ম মীমাংস বা বহ্মসূত্র।

★স্মৃতি সংহিতা(সমাজ ব্যবস্থাপক শাস্ত্র) ২০টি
১) মনু সংহিতা,
২) অত্রি সংহিতা,
৩) বিষ্ণু সংহিতা,
৪) হরিত সংহিতা,
৫) যাজ্ঞবল্ক্য সংহিতা,
৬) পরাশর সংহিতা,
৭) ব্যাস সংহিতা,
৮) উশনা সংহিতা,
৯) অঙ্গিরা সংহিতা,
১০) যম সংহিতা,
১১) অপস্তম্ভ সংহিতা,
১২) সম্বর্ত সংহিতা,
১৩) কাত্যায়ন সংহিতা,
১৪) বৃহস্পতি সংহিতা,
১৫) শঙ্খ সংহিতা,
১৬) লিখিত সংহিতা,
১৭) দক্ষ সংহিতা,
১৮) গৌতম সংহিতা,
১৯) শতাতপ সংহিতা,
২০) বশিষ্ট সংহিতা।

★পুরাণ - ২টি
১) মহাপুরাণ,
২) উপ-পুরাণ।

★মহা পুরাণ -১৮টি
১) ব্রহ্ম পুরাণ মন্ত্রসংখা-১০,০০০,
২) শিব পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-২৪,০০০,
৩) পদ্ম পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-৫৫,০০০,
৪) বিষ্ণু পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-২৩,০০০,
৫) ভাগবত পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১৮,০০০,
৬) মার্কণ্ডেয় পুনাণ মন্ত্রসংখ্যা-৯,০০০,
৭) অগ্নি পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-৫,৪০০,
৮) ভবিষত পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১৪,৫০০,
৯) ব্রহ্মবৈবর্ত্ত পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১৮,০০০,
১০) মৎস পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১৪,০০০,
১১) লিঙ্গ পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১১,০০০,
১২) বরাহ পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-২৪,০০০,
১৩) কুর্ম্ম পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১৭,০০০,
১৪) গরুড় পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১৯,০০০,
১৫) ব্রহ্মা পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১২,০০০,
১৬) নারদীয় পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-২৫,০০০,
১৭) স্কন্ধ পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-৮১,১০১,
১৮) বামন পুরাণ মন্ত্রসংখ্যা-১০,০০০।

★ইতিহাস ২টি
১) রামায়ণ,
২) মহাভারত।

★দেবী ভগবত(শাক্ত সম্প্রদায়)।

★শ্রীমদ্ভাগবদ(বৈষ্ণব সম্প্রদায়)।

★চৈতন্য চরিতামৃত।

★শ্রীমদ্ভাগবত গীতা মন্ত্রসংখ্যা-৭০০ শ্রেষ্টগ্রন্থ (৫ম বেদ)।

★শ্রীশ্রী চণ্ডী.মন্ত্রসংখ্যা-৭০০।

Friday, January 18, 2019

আমরা সরস্বতী পূজার আগে কুল বা বড়ই খাই না কেন???

সরস্বতী দেবীকে তুষ্ট করার জন্য মহামুনি ব্যাসদেব বদরিকাশ্রমে তপস্য করেছিল। তপস্যা শুরুর পূর্বে তার তপস্য স্থলের কাছে একটি কুল বা বরই বিচি/বীজ রেখে সর্ত দেয়া হলো, এই কুলবীজ অংকুরিত হয়ে চারা, চারা থেকে বড় গাছ, বড় গাছে ফুল থেকে নতুন কুল হবে। যেদিন সেই কুল পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হবে, সেই দিন তার তপস্য পূর্ণ হবে বা সরস্বতী দেবীকে তুষ্ট হবে। ব্যাসদেবও সেই সর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করলেন। ধীরে ধীরে বেশ কয়েক বছর এই কুলবীজ অংকুরিত হয়ে চারা, চারা থেকে বড় গাছ, বড় গাছে ফুল থেকে নতুন কুল হয় এবং একদিন তা পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হয়, তখন ব্যাসদেব বুঝতে পারে যে, সরস্বতী দেবী তার প্রতি তুষ্ট হয়েছেন ( কুল বা বরই এর আর এক নাম বদ্রী, তপস্যার সাথে বদ্রী এর সম্পর্ক থাকায় ঐ জায়গার নাম বদরিকাশ্রম নামে প্রচার হয়ে যায়)। দিনটি ছিল শ্রীপঞ্চমীর দিন। সেদিন বেদমাতা সরস্বতী কে বদ্রী/কুল ফল নিবেদন করে অর্চণা করে তিনি ব্রহ্মসূত্র রচনা আরম্ভ করেন। শ্রীপঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবী তুষ্ট হয়েছিলেন। তাই সেই দিনের আগে আমরা কুল ভক্ষণ করি না। শ্রীপঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবীকে কুল নিবেদন করার পরেই কুল ভক্ষণ করি।.... স্খাস্থ্যগত কারণেও সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া ঠিক না। কারণ মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে কুল কাচা বা কশযুক্ত থাকে। কাচা বা কশযুক্ত কুল থেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।
হাজার হাজার বছর পূর্বে আমার সনাতন ধর্ম যা বলে গেছে, আজ বিজ্ঞান গবেষনা করে তার সত্যতা পাচ্ছে।
জয় হোক সনাতন ধর্মের।।

Wednesday, November 21, 2018

মাংস তো মাংসই হয়, গরুর হউক, আর ছাগলের, বা অন্য কোন প্রানীর........। তাহলে হিন্দুরা জানোয়ারের প্রতি আলাদা আলাদা ব্যবহার করে, কেন নাটক করে যে, ছাগল কাটো, কিন্তু গরু কেটো না। এটা কি তাদের মূর্খতা নয় ???

উত্তর - ০১
একদম ঠিক বলেছেন আপনি। পুরুষ
তো পুরুষই হয়..... ভাই হউক, বা স্বামী, বা পিতা, বা
পুত্র।
তাহলে চারজনের সাথে আপনি আলাদা আলাদা ব্যবহার
কেন করেন ???
সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য, বা যৌন সুখ পাবার জন্য কি
স্বামীর প্রয়োজনীয়তা আছে ??? ভাই, পুত্র, বা
পিতার সাথেও কি এই একই ব্যবহার করা যেতে পারে,
যা আপনি আপনার স্বামীর সঙ্গে করেন।
এটা আপনার মূর্খতা আর আপনার নাটক নয়....???
উত্তর - ০২
ঘরে আপনি আপনার বাচ্চা আর আপনার স্বামী কে
খাবার জন্য দুধ নিশ্চয় দেন, বা চা কফি তো তৈরি
করেন.....
নিশ্চিত ঐ দুধ গাভী বা মহিষেরই হবে। নাকি আপনি
কুকুরের দুধ দিতে পারেন, বা কুকুরের দুধেরও চা
কফি বানাতে পারেন....???
দুধ তো দুধই, যে কোন প্রানীরই হউক....!!!
এটা আপনাদের মূর্খতা আর আপনাদের নাটক নয়....???
.
প্রশ্ন মাংসের নয়...... আস্থা আর ভাবনার...। যে
ভাবে ভাই, স্বামী, পুত্র, পুত্রী, বোন, মাঁ ইত্যাদি
সম্পর্কে পুরুষদের-মহিলাদের সাথে আমাদের
সম্বন্ধ মাত্র একজন পুরুষ বা মাত্র একজন স্ত্রী
হওয়ার আধারে না চলে ভাবনা আর আস্থার আধারে
সঞ্চালিত হয়..... ঠিক একই প্রকারে গরু, ছাগল বা অন্য
পশুও আমাদের ভাবনা আর আস্থার আধারে ব্যবহৃত
হয়।
.
জবাব - ০৩
এক ইংরেজ স্বামী বিবেকানন্দ কে জিজ্ঞেস
করল :- সবচেয়ে ভাল দুধ কোন জানোয়ারের
হয় ???
স্বামীজি :- মহিষের।
ইংরেজ :- কিন্তু আপনারা ভারতীয়রা তো গরুর দুধ
কে সর্বশ্রেষ্ঠ মানেন......???
স্বামীজি বললেন :- আপনি তো "দুধের"
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছেন সাহেব,
"অমৃতের" সম্পর্কে তো নয়। আর দ্বিতীয়ত,
আপনি জানোয়ারের সম্পর্কে জিজ্ঞেস
করেছেন...... গাভী তো আমাদের মাতা, কোন
জানোয়ার নয়।
.
.
এই বিষয়ে আমার একটা প্রশ্ন :-
"Save tiger" যারা বলেন তারা সমাজসেবী হয় আর
"Save Dogs" যারা বলেন তারা পশুপ্রেমী....
তাহলে "Save Cow" যারা বলে তারা কট্টরপন্থী
কিভাবে হয়ে যায়.....????

তিলকের উৎপত্তি কিভাবে ?

★ তিলকে কে কোথায় বাস করেন ?
★ শ্রীকৃষ্ণ কেন তিলক পরেন ?
★ শ্রীরাধা কেন তিলক পরেন না ?
★ তিলক ছাড়া সন্ধ্যা-বন্দনা হবে ?
★ কেন যম পালায় তিলক দেখে ?

যজ্ঞো দানং তপো হোমঃ স্বাধ্যায়ঃ পিতৃতর্পণম্।
ব্যর্থং ভব তত্ সর্বমূর্দ্ধপূনড্রং বিনাকৃতং ॥
- পদ্ম পুরাণ
অর্থাৎ, তিলক ব্যতিরেকে যজ্ঞ, দান, তপস্যা, হোম, বেদ শাস্ত্রাদি পাঠ, পিতৃতর্পণাদি ও শুভ কর্ম যাকিছু করা হয় সে সমুদয় বৃথা হইয়া থাকে।

[এখানে অনেকেই কিন্তু তিলকের ফোঁটা দেন সেটা ঠিক নয়। উর্দ্ধপূন্ড্র করে অর্থাৎ গৌড়ীয় বৈষ্ণব যেভাবে পরেন সেইভাবে দিতে হবে।]

তিলকের মহিমা

কপালে তিলক দেখে মনে হয় দেবী,
তা নাহলে শুধু মনে হয় জল-ছবি।
তিলক আর ত্রি-লোকে গোবিন্দের বাস,
ভক্তের মাধ্যমে তাঁর মহিমা প্রকাশ।
তিলক দেখে মুখে আইসে কৃষ্ণ নাম,
মৃত্যুকালে নরকে নিতে পারেনা যম।
শাস্ত্রে আছে তিলকের কত যে মহিমা,
তিলকের মধ্যে বিষ্ণু, ডানে শিব বামে ব্রহ্মা।
তিলক না থাকে তবে কপাল শ্মষাণ,
সর্বকার্যে তিলক করে শুভ শক্তিদান।
শুভ কার্যে কপালে যদি থাকে তিলক,
সর্বলোকে গুন গায় গতি উর্ধ্ব-লোক।
তিলকের উৎপত্তি হয় গোপী পদরেনু,
গোবিন্দের কপালে তিলক বাজায় বেনু।
তিলক থাকে গোপীদের চরণ কমলে,
ভক্তের মহিমা বাড়াতে কৃষ্ণের কপালে।
গোপী পদরেনু তাই রাধার কপালে তিলক নাই,
তিলক বিনে গুরু-কৃষ্ণ সেবা বিফলে গেল ভাই।

[একবার কিছু ভক্ত সন্ধ্যা আহ্নিক করে মহাপ্রভুকে প্রণাম নিবেদন করলেন। তখন মহাপ্রভু জানতে চাইলেন সন্ধ্যা আহ্নিক করেছ ? ভক্তেরা হাঁ বলেন। প্রভু তখন বললেন, তিলক ব্যতিরেকে সন্ধ্যা আহ্নিক হয়নি যাও তিলক করে পূনরায় সন্ধ্যা আহ্নিক করে আস।]

হরে কৃষ্ণ।।

Wednesday, November 14, 2018

বেস্ট আজকের ডিল রেফার কোড - 100% Authentic AjkerDeal referral Code

বিজ্ঞাপনঃ
আজকের ডিল এপটি ব্যবহার করে প্রতিদিন সহজে আয় করুন। টাকা জমিয়ে শপিং করুন যতো খুশি! এপটি(AjkerDeal) প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করে প্রথমে সাইন আপ করুন। তারপর ব্যবহার করুন এই রেফার কোডটি '1774525327' আপনি সাথে সাথে ৫০ টাকা পেয়ে যাবেন।
তাছাড়া এপটিতে প্রতিদিন একবার ঢুকলেই পাবেন ৩ টাকা বোনাস।

Thursday, August 23, 2018

প্রশ্নঃ আমরা ধান দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করি কেন?

আমরা ধান দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করি কেন?

প্রাচীন আর্যসমাজে ধান ছিল ধনের প্রতীক। অন্যদিকে দূর্বা হচ্ছে দীর্ঘায়ুর প্রতীক। দূর্বা সহজে মরে না, প্রচণ্ড রোদ বা বর্ষায় পঁচে গেলেও আবার দূর্বা বেঁচে ওঠে। আর এই কারনে দূর্বার আরেক নাম অমর। ধান-দূর্বা মস্তকে দেয়া অর্থ সম্পদশালী হও ও দীর্ঘায়ু লাভ কর।

কিন্তু যিনি আশীর্বাদ করবেন তিনি এই প্রতীকের মর্ম না বুঝলে এই আশীর্বাদ আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়।।
হরে কৃষ্ণ।।

Sunday, August 12, 2018

হিন্দুদের মূর্তি পুজো কি এবং কেন---- ??? ঈশ্বর সাকার নাকি নিরাকার-----???

অনেকেই সনাতন ধর্মের মূর্তি পূজা নিয়ে প্রশ্ন করেন। এ প্রশ্ন যে শুধু অন্য ধর্মের
লোকেরা করেন তাই নয় বরং অনেক সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও করেন। আজ
তাই আপনাদের মূর্তি পূজো কি এবং কেন করা হয় তা সনাতন দর্শনের
আলোকে তুলে ধরব।
মূর্তি পূজোর স্বরূপ জানতে হলে প্রথমে আমাদেরকে জানতে হবে ঈশ্বর ও দেবতা বলতে সনাতন দর্শনে কি বলা হয়েছে।
ঈশ্বর ও দেবতাঃ
প্রথমেই বলে রাখা দরকার সনাতন দর্শনে বহুঈশ্বরবাদের স্থান নাই
বরং আমরা একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। হিন্দু শাস্ত্র মতে, ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। সনাতন দর্শন বলে, ঈশ্বর স্বয়ম্ভূ অর্থাৎ ঈশ্বর নিজে থেকে উৎপন্ন, তার কোন
স্রষ্টা নেই, তিনি নিজেই নিজের স্রষ্টা। আমাদের প্রাচীন ঋষিগন বলে গিয়েছেন, ঈশ্বরের কোন নির্দিষ্ট রূপনেই(নিরাকার ব্রহ্ম) "না তাস্তি প্রতিমা আস্তি" তার কোন প্রতিমা,ছবি,মুর
্তি নাই। তাই তিনি অরূপ,তবে তিনি যে কোন
রূপধারন করতে পারেন কারণ তিনিই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।
ঋকবেদে বলা আছে, ঈশ্বর ‘একমেবাদ্বিতীয়ম’- ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়। ঈশ্বর বা ব্রহ্ম (ব্রহ্মা নন) সম্পর্কে আরও বলা হয়,
‘অবাংমনসগোচর’ অর্থাৎ ঈশ্বরকে কথা(বাক), মন বা চোখ
দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না, তিনি বাহ্য জগতের অতীত।
ঈশ্বর সম্পর্কে ঋকবেদে বলা আছে- ‘একং সদ বিপ্রা বহুধা বদন্তি (ঋক-১/৬৪/৪৬)
অর্থাৎ সেই এক ঈশ্বরকে পণ্ডিতগণ বহুনামে বলে থাকেন।
‘একং সন্তং বহুধন কল্পায়ন্তি’ (ঋক-১/১১৪/৫) অর্থাৎ সেই এক ঈশ্বরকে বহুরূপে কল্পনা করা হয়েছে।
‘দেবানাং পূর্বে যুগে হসতঃ সদাজায়ত’ (ঋক-১০/৭২/৭) অর্থাৎ
দেবতারও পূর্বে সেই অব্যক্ত (ঈশ্বর) হতে ব্যক্ত জগত উৎপন্ন হয়েছে।
ঈশ্বর এক কিন্তু দেবদেবী অনেক।
তাহলে দেব দেবী কারা? মনে রাখতে হবে দেব দেবীগণ ঈশ্বর নন। ঈশ্বরকে বলা হয় নির্গুণ অর্থাৎ জগতের সব গুনের(quality) আধার তিনি।
আবার ঈশ্বর সগুনও কারণ সর্ব শক্তিমান ঈশ্বর চাইলেই
যে কোন গুনের অধিকারী হতে পারেন এবং সেই গুনের প্রকাশ তিনি ঘটাতে পারেন ।
দেব দেবীগন ঈশ্বরের এই সগুনের প্রকাশ।অর্থাৎ ঈশ্বরের এক একটি গুনের সাকার প্রকাশই দেবতা। ঈশ্বর নিরাকার কিন্তু তিনি যে কোন রূপে সাকার হতে পারেন আমাদের সামনে, কারণ তিনি সর্ব ক্ষমতার অধিকারী।
যদি আমরা বিশ্বাস করি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান তাহলে নিরাকার ঈশ্বরের সাকার গুনের প্রকাশ খুবই স্বাভাবিক।তাই ঈশ্বরের শক্তির স্বগুন রূপদুর্গা, কালী, পার্বতী;বিদ্যার স্বগুন রূপসরস্বতী; ঐশ্বর্যের সগুনরূপলক্ষ্মী, মৃত্যুর রূপযম। তেমনি ঈশ্বর যখন সৃষ্টি করেন তখন ব্রহ্মা ( ব্রহ্ম নয়), যখন পালন করেন তখন বিষ্ণু আর প্রলয়রূপে শিব।এজন্য বলা হয়ে থাকে ঈশ্বরই ব্রহ্মা,তিনিই বিষ্ণু, তিনিই শিব।
তাহলে আমরা এখন বুঝতে পারছি দেব দেবী অনেক হতে পারে কিন্তু ঈশ্বর এক
এবং দেবতাগণ এই পরম ব্রহ্মেরই বিভিন্ন রূপ। তাই হিন্দুরা বহু দেবোপাসক(বস্তুত
দেবোপাসনা ঈশ্বর উপাসনাই) হতে পারে তবে বহুঈশ্বরবাদী নন।
এতক্ষন আপনাদেরকে বললাম ঈশ্বর আর দেবতার পার্থক্য। এখন বলব
তাহলে আমরা কেন এ সকল দেব দেবীগণের মূর্তি পূজা করি।
মূর্তি পূজার রহস্যঃ
মানুষের মন স্বভাবতই চঞ্চল। পার্থিব জগতে আমাদের চঞ্চল মন নানা কামনা বাসনা দিয়ে আবদ্ধ। আমরা চাইলেই এই
কামনা বাসনা বা কোন কিছু পাবার আকাংক্ষা থেকে মুক্ত
হতে পারি না। (ধরুন একজনশিক্ষার্থী তাঁর শিক্ষা জীবনের বাসনা থাকে পরীক্ষায় প্রথম হওয়া। এ জন্য সে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধনা করে।)
তীব্র গতির এই মনকে সংযত করা, স্থির করার ব্যবস্থা করা হয় এই
সগুনঈশ্বরের বিভিন্ন রুপের মাধ্যমে।
মনে রাখতে হবে আমরা কখনই ঈশ্বরের বিশালতা বা অসীমতা কে আমদের
সসীম চিন্তা দিয়ে বুঝতে পারব না। বরং সর্বগুণময় ঈশ্বরের কয়েকটি বিশেষ গুনকেই
বুঝতে পারব। আর এ রকম এক একটি গুনকে বুঝতে বুঝতে হয়ত কোন
দিন সেই সর্ব গুণময়কে বুঝতে পারব।আর মূর্তি বা প্রতিমা হল এসকল গুনের
রূপকল্প বা প্রতীক।
এটা অনেকটা গনিতের সমস্যা সমাধানের জন্য ‘x’ ধরা।
আদতে x কিছুই নয় কিন্তু এক্স ধরেই হয়ত আমরা গনিতের সমস্যার উত্তর
পেয়ে যাই। অথবা ধরুন জ্যামিতির ক্ষেত্রে আমরা কোন কিছু বিন্দু
দিয়ে শুরু করি। কিন্তু বিন্দুর সংজ্ঞা হল যার দৈর্ঘ, প্রস্থ ও বেধ
নাই কিন্তু অবস্থিতি আছে –
যা আসলে কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। অথচ এই বিন্দুকে আশ্রয় করেই
আমরা প্রশান্ত মহাসাগরের গভীরতা থেকে হিমালয়ের
উচ্চতা সব মাপতে পারি। আবার ধরুন ভূগোল পড়ার সময় একটি গ্লোব
রেখে কল্পনা করি এটা পৃথিবী আবার দেয়ালের ম্যাপ
টানিয়ে বলি এটা লন্ডন, এটা ঢাকা এটা জাপান। কিন্তু ঐ
গ্লোব বা ম্যাপ কি আসলে পৃথিবী? অথচ ওগুলো দেখেই আমরা পৃথিবী চিনছি।
তেমনি মূর্তির রূপ কল্পনা বা প্রতিমা স্বয়ং ঐসকল দেবতা নন তাঁদের প্রতীক, চিহ্ন
বা রূপকল্প। এগুলো রূপকল্প হতে পারে কিন্তু তা মনকে স্থির করতে সাহায্য করে এবং ঈশ্বরের বিভিন্ন গুনসম্পর্কে ধারনা দেয়, শেখায় ঈশ্বর সত্য। সব শেষে পরম ব্রহ্মের কাছে পৌছাতে সাহায্য করে। হিন্দু ধর্মে পূজা একটি বৈশিষ্ট্য।
কল্পনায় দাড়িয়ে সত্য উত্তরণই পূজার সার্থকতা। আমাদের ধর্মে ঈশ্বরের নিরাকার ও সাকারউভয় রূপের উপাসনার বিধান আছে।
নিরাকার ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নাই, থাকা সম্ভবও না।
যারা ঈশ্বরের অব্যক্ত বা নিরাকার উপাসনা করেন তাঁদের
বলে নিরাকারবাদি। আর যারা ঈশ্বরের সাকার রূপের
উপাসনা করেন তাঁরা সাকারবাদি।
এজন্য গীতায় বলা আছে, যারা নিরাকার, নির্গুণ ব্রহ্মের
উপাসনা করেন তারাও ঈশ্বর প্রাপ্ত হন।তবে নির্গুণ উপাসকদের কষ্ট বেশি। কারণ নিরাকার ব্রহ্মে মনস্থির করা মানুষের পক্ষে খুবই ক্লেশকর।
তবে কি হিন্দুরা পৌত্তলিকঃ
অন্য ধর্মের লোকেরা সনাতন দর্শন সম্পর্কে না জেনেই মূর্তি পূজা দেখে মন্তব্য করে বসেন হিন্দুরা পৌত্তলিক। কিন্তু সঠিক দর্শন জানলে তাঁদের এ ভুল ধারনা ভাঙবে।আগেই বলেছি আমাদের দেবতা অনেক কিন্তু ঈশ্বর এক। ঈশ্বরের কোন প্রতিমা নেই। দেবতারা হলেন ঈশ্বরের এক একটি রূপের বা গুনের প্রকাশ।মূর্তি বা প্রতিমা হল সে সকল গুনের প্রতীক, চিহ্ন বা রূপকল্প। সব ধর্মেই এমন রূপকল্প, চিহ্ন বা প্রতীক আছে যা তাঁদের কাছে পবিত্র। যেমন ধরুন খৃস্টানদের গির্জায় মাতা মেরী বা ক্রুশবিদ্ধ যীশুর প্রতিমা থাকে যার সামনে তাঁরা নতজানু হয়ে প্রার্থনা করে। আবার ধরুন মুসলিমরা কাবাশরীফকে পবিত্র মনে করে চম্বন করে কিংবা কোন
কাগজে আরবিতে আল্লাহ লেখা থাকলে তাকে সম্মান দেয়, তাকে যেখানে সেখানে ফেলে দেয় না। তাহলে ঐ কাগজখানা কি আল্লাহ নিজে? না।
কিন্তু তারপরও তাকে সম্মান করে কারণ তা আল্লাহর নাম ওটা দেখে আল্লাহর কথা মনে আসে, তার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ পায়।
কেউ কেউ শুন্যপানে চেয়ে প্রার্থনা করেন। তাহলে কি ঐ শুন্যপানে ঈশ্বরের বসতি।আসলে তা নয়।কিন্তু আমারা তো এভাবে প্রার্থনা করি। এভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়
জগতের সবাই পৌত্তলিক। এ প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দের একটি ঘটনার
কথা বললে আপনারা বুঝতে পারবে। পরিব্রাজক স্বামী বিবেকানন্দ
তখন আলোয়ারের মহারাজের অতিথি। আলোয়ার রাজ কথাপ্রসঙ্গে স্বামীজিকে জানালেন যে মূর্তি পূজায় তিনি বিশ্বাস করেন না।
স্বামীজি একথা শুনে মহারাজার একটি চিত্র আনতে বললেন এবং রাজার দেওয়ানকে বললেন ওই ছবির উপর থুথু ফেলতে। সমস্ত রাজসভা নিঃশব্দে এই দৃশ্য
দেখতে লাগল। দেওয়ান স্বামিজির নির্দেশ পালনে অসমর্থ হলেন, তখন
স্বামী জি বললেন, 'এই ছবি তো একটি রং করা কাগজ মাত্র,
এই ছবি তো আর রাজা নয়, তাহলে এর উপর থুথু ফেলতে অসুবিধা কোথায় ? '
স্বামীজির বারংবার নির্দেশ সত্ত্বেও দেওয়ান যখন রাজার ছবিতে থুথু ফেলতে পারলেন না তখন স্বামীজি রাজাকে বুঝিয়ে বললেন, '' ফটোগ্রাফ তো একটি জড়বস্তু, একখণ্ড রং করা কাগজ মাত্র । তবু ওই ছবিটি আসল মানুষটিকে মনে করিয়ে দেয়। ছবিটির
দিকে দেখলে আমরা ভাবিনা যে নিছক কোনও রং করা কাগজ দেখছি।
ঠিক তেমনই আমরা যখন মাটির মূর্তি পূজা করি আমরা মনে করি স্বয়ং ভগবানকেই পূজা করছি। আমরা সে সময় কখনও মনে করিনা আমরা কোনও জড় মূর্তি বা খড় বা মাটির উপাসনা করছি। আমরা দেবতার মূর্তিকে শুধুমাত্র প্রতীক মনে করি এর বেশি কিছু নয়। এজন্য পূজার সময় পূজারী ব্রাহ্মণগন মন্ত্র পাঠের মাধ্যমে প্রতিমায়
প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন অর্থাৎ ধরে নেয়া হয় দেবতাগন ঐ প্রতিমায় ভাস্বর হয়ে উঠবেন।
আবার কাঠমাটির প্রতিমা যে ঐ সকল দেবতা নয় তার প্রমানমেলে পূজার পর প্রতিমাগুলোকে জলে বিসর্জন দিয়ে।
যদি প্রতিমাকেই ঐ সকল দেবতা মনে করা হত তাহলে নিশ্চয় কেউ তা জলে বিসর্জন দিত না। তাই হিন্দুর দেবমূর্তি পুতুল নয়। তা চিন্ময় ভগবানেরই প্রতীক।
সনাতন ধর্মে ঈশ্বরের নিরাকার ও সাকার উভয় রূপের উপাসনার বিধান
আছে। যারা ঈশ্বরের অব্যক্ত বা নিরাকার উপাসনা করেন তাঁদের বলে নিরাকারবাদি। আর যারা ঈশ্বরের সাকার রূপের
উপাসনা করেন তাঁরা সাকারবাদি।
এজন্য স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
‘পুতুল পূজা করে না হিন্দু,
কাঠ মাটি দিয়ে গড়া।
মৃন্ময়ী মাঝে চিন্ময়ী হেরে,
হয়ে যাই আত্মহারা।‘
এখন প্রশ্ন আসতে পারে আমরা কেন তাহলে নিরাকার ঈশ্বরের পূজা না করে সাকার ঈশ্বরের পূজা করি? জাগতিক মোহ থেকে সাকার
পূজা করা হয়ে থাকে। আগেই বলেছি যে বিদ্যা চায় সে সরস্বতী দেবীর প্রার্থনা করে,
যে অর্থ চায় সে লক্ষ্মী দেবীর প্রার্থনা করে, তেমনি যে বিভিন্ন বাধা বিপত্তি থেকে উদ্ধার চায় সে দুর্গা পূজা করে।
এজন্য গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেন,“জড় বাসনার দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃতহয়েছে তাঁরাই অন্য দেবদেবীর পূজা করেন এবং স্বীয় স্বভাব অনুসারে নিয়ম পালন
করে দেবতাদের উপাসনা করেন”।
দেবতার রূপও গুনমানুষের বিচিত্র রুচিকে তৃপ্ত করে ও চঞ্চল
মনকে অচঞ্চল করতে সহায়তা করে।
আমাদের মন যে চঞ্চল তার উদাহরণ মন্দির বা উপাসনালয়ে গেলে মনে
পবিত্রতা আসে, মন প্রশান্ত হয়,মনে ভক্তি জেগে ওঠে। অথচ ঈশ্বর সর্বত্র বিরাজমান।
তাহলে কেন শুধুমাত্র মন্দিরে গেলেই মনে বেশি ভক্তিভাব আসে।
আসলে জাগতিক মোহে আবদ্ধ হয়ে আমরা ঈশ্বরের এই সর্ববিরাজমানতা ভুলে যাই।আর যারা সবখানে ঈশ্বরের এই অস্তিত্ব অনুভব করতে পারেন তারাই নিরাকার উপাসনার যোগ্য।
তেমনি একটি ছোট বাচ্চাকে কিংবা কোন অজ্ঞ
ব্যক্তিকে নিরাকার ঈশ্বর সম্পর্কে ধারনা দেবেন, সে বুঝবে না বরং সে সহজে বুঝবে
সাকার দেবতারূপ ঈশ্বরকে। এই সাকার রূপের প্রতিমা দেখে সহজেই বুঝতে শিখবে ঈশ্বরের গুনের কথা,শক্তির স্বরূপ সম্পর্কে। এভাবে শুরুতে সাকার উপাসনার মধ্য
দিয়েই নিরাকার উপাসনার যোগ্যতা অর্জন হয় আমাদের।
তবে সব কিছুই যেহেতু সেই অসীমেরই অংশ তাই শ্রদ্ধা সহকারে দেবতার পুজাও
পরোক্ষভাবে ঈশ্বরের উপাসনা।
এজন্য সনাতন সংস্কৃতিতে দেখা যায় শুধু মাত্র দেবতা নয় উদ্ভিদ,উপকারী প্রাণী এমনকি মনুষ্য পুজাও করে থাকেন অনেকে। কুমারী পুজো এর উদাহরণ।
তবে দেবোপাসনায় কাম্য বস্তু লাভ হলেও ঈশ্বর লাভ হয় না। শুধুমাত্র
পরম ঈশ্বরের উপাসনাতেই ঈশ্বর লাভ হয়।এজন্য গীতায় শ্রীকৃষ্ণ
বলেন, ‘যন্তি মদযাজীনহপি মাম’ (গীতা-৯/২৫) অর্থাৎ একমাত্র আমার ভক্তগণই আমাকে প্রাপ্ত হন।
মূর্তি বা ভগবত বিগ্রহ প্রতীক বটে।।