Hare Krishna

Hare Krishna
Welcome to ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দবিগ্রহঃ

Monday, August 28, 2017

শ্রীমতী রাধারাণীর জন্মলীলারহস্য


লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ
শক্তিমান পুরুষ। যেহেতু কৃষ্ণ শক্তিমান পুরুষ , তাই তাঁর
থেকে অনন্ত শক্তি প্রকাশিত হয়েছে, যেমন -
সৃষ্টিশক্তি, লীলাশক্তি, ইচ্ছাশক্তি, জীবশক্তি,
মায়াশক্তি, বৈকুণ্ঠে ভূ, শ্রী যোগমায়া আদি ষোড়শ
শক্তি, তা ছাড়া অন্তরঙ্গা শক্তি ইত্যাদি। চিন্ময়
জগত গোলোকের সমস্ত কার্যকলাপ শ্রীকৃষ্ণের
অন্তরঙ্গা শক্তির দ্বারা সম্পন্ন হয়।
এই অন্তরঙ্গা শক্তি তিন ভাগে বিভক্ত --সন্ধিনী,
সম্বিৎ ও হ্লাদিনী।
সন্ধিনী শক্তির সাহায্যে সমস্ত চিৎ-জগৎ প্রকাশিত
হয়েছে সম্বিৎ শক্তি বা জ্ঞান শক্তির দ্বারা ভগবান
শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে জানতে পারেন কৃষ্ণভক্তেরা এই
শক্তির সাহায্যে শ্রীকৃষ্ণকে জানতে পারেন। আর
হ্লাদিনী শক্তির দ্বারা শ্রীকৃষ্ণ দিব্য আনন্দ আস্বাদন
করেন এবং ভক্তরা এই হ্লাদিনী শক্তির কৃপায়
কৃষ্ণপ্রেমের সমুদ্রে অবগাহন করেন। এই হ্লাদিনী
শক্তির প্রতিমূর্তি হচ্ছেন শ্রীমতি রাধা ঠাকুরানী।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে শ্রীমতি
রাধারাণীর জন্মলীলা সম্বন্ধে বলা হয়েছে যে--

অপ্রাকৃত বৃন্দাবন-ধামে মাধ্বীতলায় আসীন রত্ন- সিংহাসনে কৃষ্ণচন্দ্র একা বসে আছেন। তখন তিনি লীলাবিলাস করতে ইচ্ছা করায়, সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বাম অঙ্গ থেকে হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতি রাধারানী প্রকটিত হন। শ্রীমতি রাধিকাই হচ্ছে আদি শক্তি।
তাঁর গাত্রবর্ণ তপ্তসোনার মহো এবং সমগ্র অঙ্গসৌষ্ঠব নানা রকম রত্ন অলংকারে বি ভুষিতা। তিনি নানা লীলা বিলাসের দ্বারা শ্রীকৃষ্ণের সন্তোষ বিধান করেছিলেন। আরও অধিকভাবে শ্রীকৃষ্ণের আনন্দ বিধানের জন্য তিনি নিজের অঙ্গ থেকে অসংখ্য গোপিকাদের প্রকাশ করেন। এই সমস্ত ব্রজাঙ্গনারা রূপে-গুণে সর্বোত্তমা ছিলেন। সুতরাং শ্রীমতি রাধারাণী ও তাঁর কায়ব্যুহ গোপিকাদের মায়াবদ্ধ জীবদের মতো জন্মগ্রহণ করতে হয়নি। তাঁরা শ্রীকৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তির প্রকাশ। তাঁরা গোলোকে শাশ্বতকাল ধরে অবস্থান করছেন এবং শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে লীলা বিলাস করে কৃষ্ণপ্রেম আস্বাধন করছেন।
ব্রহ্মার দিবসের মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন ভৌম বৃন্দাবনে বা এই জড় জগতের মধ্যে প্রকাশিত বৃন্দাবনে অবতরণ করেন, তখন তাঁর লীলায় অংশ গ্রহণ করবার জন্য তাঁর হ্লাদিনী শক্তি শ্রীমতি রাধারানী ও তাঁর কায়ব্যুহ সখীরা যদিও তাঁদের শাশ্বত চিন্ময় রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন, তবুও আমাদের দৃষ্টিতে আমরা দেখতে পাই যে, তাঁরা যেন জন্মলীলা প্রকট করেছেন।
যেহেতু আমরা মায়াবদ্ধ জীব, তাই আমাদের কৃপা করবার জন্য তাঁরা আমাদের মতো জন্মলীলা পরিগ্রহ করেন।
প্রকৃতপক্ষে তাঁদের জন্ম ও কর্ম সবই দিব্য বা অপ্রাকৃত।
পদ্ম পুরাণের উত্তর খণ্ডে শিব-পার্বতী সংবাদে ভৌম বৃন্দাবনে শ্রীমতী রাধারাণীর জন্ম সম্বন্ধে আমরা জানতে পাই যে-
বৃন্দাবনে বৃষভানু রাজা নামে এক পরম ভক্ত বাস করতেন। তাঁর কীর্তিদা সুন্দরী নামে এক পতিপ্রাণা স্ত্রী ছিল। তাঁরই গর্ভে ভাদ্রমাসে শুক্লাষ্টমী তিথিতে মধ্যাহ্নে শুভক্ষণে শ্রীমতী রাধারাণী জন্মগ্রহণ করেন।
কন্যারত্ন দর্শনে সমগ্র বৃন্দাবন দিব্যানন্দে মগ্ন হলেন। কন্যার রূপে সকলে মুগ্ধ হলেও তাঁর চোখ নিমীলিত ছিল বলে সকলেই মনে করল কন্যাটি অন্ধ হয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। রাধারাণীর চোখ মুদ্রিত হয়ে থাকার কারণ হচ্ছে- একদিন গোলোকে কৃষ্ণ রাধারাণীকে জ্ঞাপন করলেন যে, তিনি অতি শীঘ্রই পৃথিবীতে অবতরণ করবেন। সুতরাং রাধারাণী যেন সেখানে অবতরণ করেন, কেননা সেখানে উভয়ের মাধ্যে বিচিত্র মাধুর্য লীলা বিলাস হবে।কৃষ্ণের কথা শুনে রাধারানী বললেন যে, যদি তাঁকে পৃথিবীতে অবতরণ করতে হয়, তা হলে পর পুরুষের মুখ দর্শন করতে হবে।
কিন্তু রাধারানী শ্রীকৃষ্ণের রূপমাধুরী ছাড়া অন্য কিছুই দর্শন করেন না। তাই তাঁর পক্ষে পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করা কি করে সম্ভব ? রাধারাণীর যুক্তিসংগত কথা শুনে কৃষ্ণ বললেন যে, সেই জন্য তাঁর চিন্তার কোন ও কারন নেই। রাধারানী সব সময় কৃষ্ণকেই দেখতে পাবেন।

ইচ্ছামৃত্যু লাভের উপায়

শচীন্দ্রনাথ হালদার।

বায়ু তত্ত্ব-মানুষের পঞ্চভূতের দেহের মধ্যে বায়ু অন্যতম। আমাদের দেহে পাঁচ ধরনের বায়ু কাজ করে। যথাঃ ১)প্রাণ বায়ু ২)অপান বায়ু ৩)সমান বায়ু ৪)ব্যান বায়ু এবং ৫) উদান বায়ু।

১) প্রাণ বায়ুঃ আমাদের শরীরের শ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুকে প্রাণ বায়ু বলে। প্রাণই এ শ্বাস-প্রশ্বাসের মূল শক্তি। এ প্রাণকে প্রানায়ামের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা যায়। আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি রেশম সুতার মত। উহা ধারন বা সংযম করতে পারলে স্মায়ুবিক শক্তিপ্রবাহরুপ শক্ত সুতা, তারপর মনোবৃত্তিরুপ শক্ত দড়ি, পরিশেষে প্রাণরুপ রজ্জুকে ধরতে পারা যায়। প্রাণকে নিয়ন্ত্রন করতে পারলেই মুক্তিলাভ হয়ে থাকে। প্রানায়েমের মাধ্যমে শরীর এবং মনকে সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনে আনা যায়। মানুষের প্রাণ অন্নগত প্রাণ। আমার জানামতে আয়ারল্যান্ডের সংসদ সদস্য ববি স্যান্ডস ছিষট্টি দিন অনশন করে মৃত্যুবরন করেন।

ভারতীয় বাঙ্গালী স্বাধীনতা সংগ্রামী মিঃ দাস(সম্ভবতঃ নিতাই দাস) পাঞ্জাব জেলে তেষট্টি দিন অনশন করে মৃত্যুবরন করেন। অর্থাৎ ৬০/৭০ দিন না খেলে প্রাণ দেহ থেকে বের হয়ে যায় এবং আত্মা প্রাণকে অনুস্ম্রণ করে।ফলে জাতকের মৃত্যু হয়। আমাদের প্রাণ বায়ূগত প্রাণ। ২/৩ মিনিট বায়ু গ্রহণ না করলেই দেহ থেকে প্রাণ বের হয়ে যায় এবং আত্মা প্রাণকে অনুস্মরন করে।ফলে জাতকের মৃত্যু ঘটে। প্রাণ বায়ুর গতি মুখ ও নাক পর্যন্ত এবং বৃত্তি হৃদয় পর্যন্ত। প্রানায়ামের মাধ্যমে প্রাণকে নিয়ন্ত্রন করেই সাধকরা অষ্টসিদ্ধি লাভ করে প্রায় ঈশ্বরীয় ক্ষমতা ভোগ করতে পারে।

২) অপান বায়ুঃ মানুষের নাভির নিচে এ বায়ুর অবস্থান। এ বায়ু দুষিত হলেই মানব দেহে নানাপ্রকার রোগের সৃষ্টি হয়। এ অপান বায়ু শুদ্ধির প্রক্রিয়াটি সাধকরা জানার ফলে তারা কখনো অসুস্থ হন না। এ অপান বায়ুর বৃত্তি নাভিমূল থেকে পায়ের নীচ পর্যন্ত।
৩)সমান বায়ুঃ আমাদের দেহের নাভিমুলে সমান বায়ুর অবস্থান। এ সমান বায়ু প্রাণ এবং অপান বায়ুকে আলাদা করেছে। সমান বায়ু শরীরে সমতা নিয়ে আসে(স্থাপন করে)। এ বায়ুর প্রভাবে দেহ জ্যোতিস্মান ও তেজীয়ান হয়।
৪) ব্যান বায়ুঃ ব্যান বায়ু সমস্ত শরীরে ব্যাপ্ত থাকায় তা ব্যান বায়ু।

৫) উদান বায়ুঃ নাভিমূল থেকে মস্তক পর্যন্ত উদান বায়ুর বৃত্তি।আমাদের কথা বলার সক্ষমতা এ বায়ুর কারনেই হয়ে থাকে।উদান বায়ুর সমস্যার কারনে মানুষ তোতলা বা বোবা হয়। মানুষের বোধরুপ স্নায়ুতন্ত্র উদান বায়ুর আশ্রয়।
প্রাণ বায়ুর সাথে অপান বায়ুর মিলন ঘটায়ে সাধকরা ইচ্ছামৃত্যু লাভ করতে পারে।কিন্তু এজন্য দীর্ঘকাল সাধনার প্রয়োজন। এ যুগে মানুষের আয়ু ১১৬ বছর। কিন্তু সাধকরা দীর্ঘকাল সাধনার দ্বারা প্রাণ ও অপান বায়ুর মিলন ঘটায়ে এ আয়ু আরো অনেক বছর বাড়াতে পারেন।লোকনাথ ব্রহ্মচারী নিজে ১৬০ বছর বেচেছিলেন।তিনি তিন বার মক্কানগরী ভ্রমন করেছিলেন।মক্কানগরীতে লোকনাথ বাবা আবদুর গফুর নামের গুহায় ধ্যানরত মৌণব্রত একজন মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।তখন আবদুর গফুরের বয়স ছিল ৪০০ বছর(লোকনাথ পঞ্চিকায় তাঁর জীবনী দ্রস্টব্য)।
একশত বছর আগে ভোলা গিরি নামে একজন নাগা সন্নাসী বাংলাদেশের খুলনায় এসেছিলেন।তখন তাঁর বয়স সারে সাত শত বছর।পুরাতন ঢাকায় তার নামে একটি আশ্রম আছে। ভারতের ৪টি তীর্থক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে ১২ বছর পর পর পূর্ণ কুম্ভমেলা এবং ছয় বছর পর পর অর্ধ কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১১৬ বছরের অধিক বয়স্ক অনেক সাধককে পাওয়া যায়। পরবর্তী অর্ধকুম্ভমেলা ২০১৮ সালে এবং পূর্ণ কুম্ভমেলা ২০২৪ সালে নির্ধারিত তীর্থক্ষেত্রে অনুষ্ঠিত হবে। অরিস্ট নামক মৃত্যুলক্ষনগুলির উপর মনোসংযোগ করলে জাতকের মৃত্যুর ক্ষণ জানা যায়।

আমরা অনেকেই জানি না রাধা রানী কে?  আর আমরা না জেনে অনেক ভুল ধারনা করে থাকি?

আসুন দেখি আমাদের বৈদিক গন্থে কি বলছে রাধা রানী সম্পর্কে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদিশক্তি শ্রীমতী রাধারাণী। শ্রী রাধারানী ও শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, তাঁরা এক । কেবলমাত্র
লীলারস আস্বাদন করার জন্য দুই দেহ ধারণ করেছেন । ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বর্ণিত আছে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নিজেকে আনন্দ প্রদান
করার জন্য নিজের বাম অংশ থেকে শ্রীরাধাকে সৃষ্টি করলেন। শ্রীমতী রাধারাণী আদিশক্তি রূপে জগতে খ্যাত হয়ে তাঁর
নিজের চিৎশক্তির বলে অসংখ্য গোপী ও লক্ষ্মীদেবীদের কৃষ্ণের প্রীতিবিধান করার জন্য সৃষ্টি করেছেন । তবে সাধারণ লোকেরা এ তত্ত্ব না জেনে শ্রীমতী রাধারাণীকে একজন
সাধারন নারী বলে জ্ঞান করেন । কারণ কামের বশবর্তী হয়ে তারা এ জগতে সমস্ত বস্তুকে কামময় দৃষ্টিতে দর্শন করেন । কিন্তু
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীমতী রাধারাণী সমস্ত লীলা হচ্ছে প্রেমময় । এ জগতে প্রেমের লেশমাত্র গন্ধ নেই । এটি কামময় জগত। কাম ও প্রেমের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ ।
আত্মেন্দ্রিয় প্রীতি-বাঞ্ছা—তারে বলি, ‘কাম’। 
কৃষ্ণেন্দ্রিয় প্রীতি-ইচ্ছা ধরে ‘প্রেম’ নাম ।। (চৈতণ্য চরিতামৃত
৪/১৬৫)
“নিজের ইন্দ্রিয় তৃপ্তির বাসনাকে বলা হয় কাম, আর পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ইন্দ্রিয়ের প্রীতিসাধনের ইচ্ছাকে বলা হয় প্রেম ।”
শ্রীমতী রাধারাণীর অন্য একটি নাম ‘ক্যাচিৎ’, অর্থাৎ যিনি শ্রীকৃষ্ণকে অখন্ড সুখ প্রদান করেন । “সর্বত্যাগ করি করে কৃষ্ণের ভজন ।” দেহধর্ম, বেদ ধর্ম, লোক ধর্ম সব ত্যাগ করে কৃষ্ণের সেবা করেছিলেন । তবে এ তত্ত্ব সম্বন্ধে সকলে অবগত নয় ।
কখনও কখনও কেউ যুক্তি প্রদান করেন যে শ্রীমতী রাধারাণীর নাম শ্রীমদভাগবতে নেই । কিন্তু এটি জানা উচিত শ্রীমতী রাধারাণীর নাম ও মহিমা শ্রীমদভাগবত ছাড়া ও শ্রীব্যাসদেবের রচিত বহু প্রামাণিক শাস্ত্রে উল্লেখিত আছে । শ্রীবৃহৎ ভাগবতামৃতে শ্রীপরীক্ষিত মহারাজের উক্তি –
গোপীনাং বিততাদ্ভুতস্ফুটতর প্রেমানলার্চিশ্ছটাদগ্ধানাং
কিল নামকীর্তনকৃতাত্তাসাং স্পর্শেন সদ্যো মহা-
বৈকল্যং স ভজন্ কদাপি ন মুখে নমানি কর্তুং পভুঃ ।।
(বৃহদ্ভাগবতামৃতম্ – ১/৭/১৩৪)
অর্থাৎ মহারাজ পরীক্ষিত নিজ জননী উত্তরাকে বললেন, “হে মাতা ! আমার গুরুদেব শুকমনি ভাগবত কথা কীর্তন করার সময় গোপীদের কারোর নাম উচ্চারণ করতে সমর্থন হননি । তার কারন গোপীদের নাম উচ্চারণ করলে বিশেষ স্মৃতিতে তাঁর চিত্ত অতি বিস্মৃত জ্বালাময় প্রেমানলে মহাবিহবল হয়ে পড়তেন, যার ফলে আর ভাগবত কথা বলতে পারতেন না ।”
তবে বহু প্রামণিক শাস্ত্রে শ্রীমতী রাধারাণীর মহিমা বর্ণনা করা হয়েছে । যেমন, শ্রীগোপাল তাপনীতে বলা
হয়েছে –
তস্যাদ্যো প্রকৃতি রাধিকা নিত্য নির্গুণা ।
যস্যাংশে লক্ষ্মী দুর্গাদিকা শক্তয়ঃ ।।
অর্থাৎ – “শ্রীকৃষ্ণের নিত্য শক্তি, আদিশক্তি শ্রীরাধা নিত্য
নির্গুনা; এবং লক্ষ্মী, দুর্গাদি সব ভগবৎ শক্তিবর্গ যাঁর অংশ ।”
‘শ্রীবৃহদেগৌতমীয় তন্ত্রে’ শ্রীকৃষ্ণের উক্তি –
সত্ত্বং তত্ত্বং পরত্বঞ্চ তত্ত্বত্রয়মহং কিল ।
ত্রিতত্ত্বরূপিনী সাপি রাধিকা মম বল্লভা ।।
অর্থাৎ – “আমি যেমন নিত্য আনন্দময় হয়ে বিশ্বের কার্য, কারণ ও
ত্রিতত্ত্ব-স্বরূপ, তেমনই শ্রীরাধা নিত্য আনন্দময়ী হয়ে কার্য,
কারণ স্বভাবস্থিতা ।”
শ্রীপদ্মপুরাণে পাতালখন্ডে শ্রীশিবজী নারদকে বললেন –
দেবী কৃষ্ণময়ী প্রোক্তা রাধিকা পরদেবতা ।
সর্বলক্ষ্মী-স্বরূপা সা কৃষ্ণাহ্লাদ স্বরূপিনী ।।
তৎ সো প্রোচ্যতে বিপ্র হ্লাদিনীতি মনীষিভিঃ ।
তৎকলাকোটিকোট্যাংশা দুর্গাদ্যাস্ত্রীগুণাত্মিকাঃ ।।
অর্থাৎ – “ভগবান শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমপুরুষ দেবাদী দেব, এবং
শ্রীমতি রাধিকা হচ্ছেন নিত্য শক্তি । রাধিকা সর্বলক্ষ্মী
তাঁর অংশ স্বরূপা । হে নারদ, দুর্গাদি দেবীগণ শ্রীমতি
রাধিকার কোটি কোটি অংশের এক কলা ।”
শ্রীপদ্মপুরাণে পাতালখন্ডে –
বহুনাং কিং মুনিশ্রেষ্ঠ বিনাতাভ্যাং ন কিঞ্চন ।
চিদ্ তিল্লক্ষণং সর্ব রাধাকৃষ্ণ ময়ং জগত ।।
ইত্থুং সর্ব তয়োরেব বিভূতি বিধি নারদ ।
নশ্যক্যতে মায়াবক্তুং বর্ষ কোটি শতৈরপি ।।
অর্থাৎ – “শ্রী শিবজী নারদ মুনিকে বললেন, হে মুনিবর ! আমি
তোমাকে আর কি বলব ? শ্রীরাধাকৃষ্ণ ছাড়া জগতে আর কিছু
নেই । এইভাবে সবই তাঁদের বিভূতি বলে জানবে । আমি শত
কোটি বছর ধরে বললেও শ্রীরাধাকৃষ্ণের মহিমা বর্ণনা করতে
সক্ষম হব না ।”
‘শ্রীগৌতমীয় তন্ত্রে’ বর্ণিত আছে –
দেবী কৃষ্ণময়ী প্রোক্তা রাধিকা পরদেবতা ।
সর্বলক্ষ্মীময়ী সর্বকান্তিঃ সম্মোহিনী পরা ।।
অর্থাৎ – “শ্রীমতী রাধারাণী হচ্ছেন কৃষ্ণের আদিশক্তি এবং
আদি লক্ষ্মী । সর্বগুণ বিভূষিতা এবং সমস্তকে আকর্ষণ করেন ।”
‘শ্রীনারদ পঞ্চরাত্রে’ বলা হয়েছে –
সৃষ্টিকালে চ সাদেবী মূলপ্রকৃতিরীশ্বরা ।
মাতা ভাবেন্মহাবিষ্ণোঃ স এব চ মহান্ বিরাট্ ।।
অর্থাৎ – “শ্রীরাধাই মূল প্রকৃতি এবং ঈশ্বরী । জগত সৃষ্টির সময় যে
মহাবিষ্ণু হতে জগত সৃষ্টি হয়, সেই বিরাট পুরুষের মাতা
শ্রীরাধা । মহাবিষ্ণু হতে জগত সৃষ্টি এবং শ্রীরাধা হতে
মহাবিষ্ণু উদ্ভব বলে শ্রীরাধাকে তত্ত্বতঃ জগন্মাতা বলা হয় ।”
‘শ্রীনারদ পঞ্চরাত্রে’ আবার বলা হয়েছে –
রাধা বাম শসম্ভূতা মহালক্ষ্মী প্রকীর্ত্তিতা ।
ঐশ্বর্য্যাধিষ্ঠাত্রী দেবীশ্বরস্যৈব নারদ ।।
অর্থাৎ – যে মহালক্ষ্মী ঈশ্বরের ঐশ্বর্য্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী,
তিনি শ্রীরাধার বামসম্ভূতা অর্থাৎ তিনি শ্রীরাধার অংশ ।
সুতরাং শ্রীরাধা হচ্ছেন সর্ববিধ ঐশ্বর্য্যের মূল অধিষ্ঠাত্রী
দেবী ।
ঋগবেদে (১/৩০/৫) “স্ত্রোত্রং রাধানাং পতে গির্বাহোবীর
যস্যতে”
অর্থাৎ – “হে বীর রাধানাথ স্তুতি ভাজন তোমার এ রূপ স্তুতি,
তোমার বিভূতি সত্য ও প্রিয় হোক ।”
এই রকম শাস্ত্রে বহু প্রমাণ দেখতে পাওয়া যায় যে শ্রীমতী
রাধারাণী শ্রীকৃষ্ণের আদিশক্তি ।
------------হরে কৃষ্ণ।

Tuesday, July 4, 2017

ইসকন মন্দিরে বিষ্ণুর দশ অবতারদের মধ্যে শুধুমাত্র নৃসিংহদেবের প্রার্থনা পূজা কেন করা হয়?আলাদাভাবে অন্য অবতারদের কেন পূজা করা হয় না? - Why ISCKON worship divine Nrishimha?

সারাজগতে কৃষ্ণনাম প্রচার করাই ইসকনের লক্ষ্য। যদিও কলিযুগের যুগধর্ম হরিনাম সংকীর্তন এবং জগৎমঙ্গলকর পন্থা হল কৃষ্ণভক্তি অনুশীলন, তবুও কলিযুগের আসুরিক মানুষরা কৃষ্ণভাবনামৃত আন্দোলনের বিরোধী। তারা চায় কৃষ্ণনাম প্রচার বন্ধ করে দিতে।শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন কৃষ্ণনাম সংকীর্তন প্রবর্তন করলেন, তখন নবদ্বীপে স্মার্ত ব্রাহ্মণেরা শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নবদ্বীপে হরিনাম বন্ধ করার জন্য তৎকালীন নদীয়ার শাসনকর্তা চাঁদ কাজীর কাছে আবেদন পেশ করেছিলেন। চাঁদ কাজীও গুন্ডা পাঠিয়ে মায়াপুরের শ্রীবাস অঙ্গনে সংকীর্তনকারী ভক্তদের উৎপীড়ন করতে লাগলেন তারপর নাগরা পিটিয়ে হরিনাম সংকীর্তন বন্ধের ঘোষণা জারি হয়েছিল। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ও নিত্যানন্দ প্রভু সেই সংবাদ পেয়ে চাঁদ কাজী সরকারের বিরুদ্ধে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করলেন। লক্ষ লক্ষ লোক মশাল জ্বালিয়ে হরিনাম করতে করতে চাঁদ কাজীর প্রাসাদে এসে পৌঁছলেন। চাঁদ কাজী ভয়ে লুকিয়ে ছিলেছিলেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে, তিনি বেরিয়ে এসে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সমাদর করলেন। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কাজীকে যখন প্রশ্ন করলেন, 'আপনার নির্দেশ অমান্য করে ভক্তরা হরিনাম করছে,আর আপনি কেন কিছুই প্রতিবাদ করছেন না ?' উত্তরে চাঁদ কাজী মহাপ্রভুকে বলেন, 'নিমাই,তোমাদের হরিনামে আমি আর কখনই বাধা দেবো না।কেননা আমি ভয়ে ভীত হয়ে ঘুমাতে পারিনি। এক দেবতা-যার মুখ সিংহের মতো, শরীরটা মানুষের মতো। তার হাতে ছিল বড় বড় নখ। সে আমার বুকে নখের আচড় লাগিয়ে ধমক দিয়ে বলল, "ভক্তদের সংকীর্তন যদি বন্ধ করিস্ তবে তোর বংশ নিপাত করব।" তারপর সে অদৃশ্য হয়ে যায়।তার নখের দাগ এখনো বুকে রয়েছে।'
.
সবাই বুঝলেন, ভক্তদের রক্ষার জন্য ভগবান নৃসিংহদেব,যিনি অত্যাচারী অসুর হিরণ্যকশিপুর কবল থেকে ভক্ত প্রহ্লাদকে রক্ষা করেছিলেন, তিনিই চাঁদ কাজীকে সাবধানবাণী শুনিয়েছেন।
.
কলিযুগের আসুরিক লোকদের উৎপাত থেকে ভগবানের যে অবতার সর্বদা জাগ্রত হয়ে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ পূর্বক ভক্তদের রক্ষা করেন, তিনি হচ্ছেন শ্রীনৃসিংহদেব।
.
১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ২৪শে মার্চ রাত দুপুরে গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শ্রীধাম মায়াপুর ইসকন মন্দির আক্রমণ করেছিল ৩৫ জন ডাকাত। প্রভুপাদের বিগ্রহ ও রাধারাণীর বিগ্রহ তারা অপহরণ করে। মন্দিরের আর্তক্রন্দনময় বিভীষিকা ভক্তদের মর্মাহত করেছিল। জিবিসির পক্ষ থেকে সমাধান কল্পে শ্রীমায়াপুর ইসকন মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হলেন শ্রী শ্রী উগ্রনৃসিংহদেব। সময়টি ছিল ১৯৮৬ খৃষ্টাব্দের জুলাইয়ের শেষ দিক।
.
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য মহাপ্রভুর হরে কৃষ্ণ আন্দোলনে ভক্তদের সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রান্তে আসুরিক শক্তির সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়। আসুরিক শক্তির কাজটিই হল ভক্তদের উৎপীড়ন করা এবং হরিনাম প্রচার বন্ধ করা।সর্বত্রই ভক্তিবিঘ্ন বিনাশক শ্রীনৃসিংহদেবই সুরক্ষা দান করেন।
.
আমাদের মায়াপুর ইসকন মন্দিরে শ্রীনৃসিংহদেব বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে পরেই বহু শালগ্রাম শিলাও উপস্থিত হয়েছে। সবচেয়ে বড় শিলা নৃসিংহ শিলা, তারপরে দশ অবতার সহ বহু অসংখ্য অবতারের শিলাও অর্চিত হচ্ছে।সমস্ত অবতারেরই পূজা-অর্চনা হলেও প্রায় ক্ষেত্রে নৃসিংহদেবের প্রকাশ প্রভাবটাই বেশী দেখা যায় সেজন্য সব মন্দিরে ভক্তরা নৃসিংহ প্রার্থনাই নিত্য গীত করে থাকেন।
.
জয় ভক্তবৎসল শ্রীনৃসিংহদেব!!

Monday, July 3, 2017

শয়ন একাদশী ব্রত মাহাত্ম্য- Shayan Ekadasi Brata Mahatma

"হরে কৃষ্ণ"
মহারাজ যুধিষ্ঠির বললেন---'হে কৃষ্ণ! আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের একাদশীর নাম কি? এর মহিমাই বা কি? তা আমাকে কৃপা করে বলুন।'
.
শ্রীকৃষ্ণ বলেলেন, ব্রহ্মা এই
একাদশী সম্পর্কে দেবর্ষি নারদকে যা বলেছিলেন আমি সেই আশ্চর্যজনক কথা আপনাকে বলছি। শ্রীব্রহ্মা বললেন---হে নারদ! এ সংসারে একাদশীর মতো পবিত্র আর কোন
ব্রত নেই। সকল পাপ বিনাশের জন্য এই বিষ্ণুব্রত পালন করা একান্ত আবশ্যক। যে ব্যক্তি এই প্রকার পবিত্র পাপনাশক এবং সকল অভিষ্ট প্রদাতা একাদশী ব্রত না করে তাকে নরকগামী হতে হয়।
.
আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের এই একাদশী 'শয়নী' নামে বিখ্যাত। শ্রীভগবান ঋষিকেশের জন্য এই ব্রত পালন করতে হয়। এই ব্রতের সমন্ধে এক মঙ্গলময় পৌরাণিক কাহিনী আছে। আমি এখন তা বলছি।
.
বহু বছর পূর্বে সূর্যবংশে মান্ধাতা
নামে একজন রাজর্ষি ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যপ্রতিজ্ঞ এবং
প্রতাপশালী চক্রবর্তী রাজা।
প্রজাদেরকে তিনি নিজের সন্তানের মতো প্রতিপালন করতেন। সেই রাজ্যে কোনরকম দুঃখ, রোগ-ব্যাধি, দুর্ভিক্ষ, আতঙ্ক, খাদ্যাভাব অথবা কোন অন্যায় আচরণ ছিল না। এইভাবে বহুদিন অতিবাহিত হল। কিন্তু একসময় হঠাৎ দৈবদুর্বিপাকে
ক্রমাগত তিনবছর সে রাজ্যে কোন বৃষ্টি হয়নি। দুর্ভিক্ষের ফলে সেখানে দেবতাদের উদ্দেশ্যে দানমন্ত্রের 'স্বাহা' 'স্বধা' ইত্যাদি শব্দও বন্ধ হয়ে গেল। এমনকি বেদপাঠও ক্রমশ বন্ধ হল।
.
তখন প্রজারা রাজার কাছে এসে বলতে লাগল---মহারাজ দয়া করে আমাদের কথা শুনুন। শাস্ত্রে জলকে নার বলা হয় আর সেই জলে ভগবানের অয়ন অর্থাৎ নিবাস। তাই ভগবানের এক নাম নারায়ণ। মেঘরূপে
ভগবান বিষ্ণু সর্বত্র বারিবর্ষণ
করেন। সেই বৃষ্টি থেকে অন্ন এবং অন্ন খেয়ে প্রজাগণ জীবন ধারণ করেন। এখন সেই অন্নের অভাবে প্রজারা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। অতএব হে মহারাজ আপনি এমন কোন উপায় অবলম্বন করুন যাতে আপনার রাজ্যের শান্তি এবং কল্যাণ সাধন
হয়।
.
রাজা মান্ধাতা বললেন---তোমরা ঠিকই বলেছ। অন্ন থেকে প্রজার উদ্ভব। অন্ন থেকেই প্রজার পালন। তাই অন্নের অভাবে প্রজারা বিনষ্ট হয়। আবার রাজার দোষেও রাজ্য নষ্ট
হয়। আমি নিজের বুদ্ধিতে আমার নিজের কোন দোষ খুঁজে পাচ্ছি না। তবুও প্রজাদের কল্যাণের জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করব।
.
তারপর রাজা ব্রহ্মাকে প্রণাম করে সৈন্যসহ বনে গমন করলেন। সেখানে প্রধান প্রধান ঋষিদের আশ্রমে ভ্রমণ করলেন। এভাবে একদিন তিনি ব্রহ্মার
পুত্র মহাতেজস্বী অঙ্গিরা ঋষির
সাক্ষাৎ লাভ করলেন। তাকে
দর্শনমাত্রই রাজা মহানন্দে ঋষির চরণ বন্দনা করলেন। মুনিবর তাকে আর্শীর্বাদ ও কুশল প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করলেন। রাজা তখন তার বনে আগমনের কারণ সবিস্তারে
ঋষির কাছে জানালেন।
.
ঋষি অঙ্গিরা কিছু সময় ধ্যানস্থ
থাকার পর বলতে লাগলেন---‘হে
রাজন! এটি সত্যযুগ। এই যুগে সকল লোক বেদপরায়ণ এবং ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্য কেউ তপস্যা করে না। এই নিয়ম থাকা সত্ত্বেও এক শূদ্র এ রাজ্যে তপস্যা করছে। তার এই অকার্যের জন্যই রাজ্যের এই দুর্দশা। তাই তাকে
হত্যা করলেই সকল দোষ দূর হবে।
.
রাজা বললেন---হে মুনিবর!
তপস্যাকারী নিরপরাধ ব্যক্তিকে
আমি কিভাবে বধ করব? আমার পক্ষে সহজসাধ্য অন্য কোন উপায় থাকলে আপনি তা দয়া করে আমাকে বলুন।
.
তদুত্তরে মহর্ষি অঙ্গিরা বললেন---আপনি আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের শয়নী নামে প্রসিদ্ধা একাদশী ব্রত পালন করুন। এই ব্রতের প্রভাবে নিশ্চয়ই রাজ্যে বৃষ্টি হবে। এই একাদশী সর্বসিদ্ধি দাত্রী এবং সর্ব উপদ্রব নাশকারিনী। হে রাজন! প্রজা ও পরিবারবর্গ সহ আপনি এই ব্রত পালন করুন।
.
মুনিবরের কথা শুনে রাজা নিজের প্রাসাদে ফিরে এলেন। আষাঢ় মাস উপস্থিত হলে রাজ্যের সকল প্রজা রাজার সাথে এই একাদশী ব্রতের
অনুষ্ঠান করলেন। ব্রত প্রভাবে
প্রচুর বৃষ্টিপাত হল। কিছুকালের
মধ্যেই অন্নাভাব দূর হল। ভগবান হৃষিকেশের কৃপায় প্রজাগণ সুখী হল।
.
এ কারণে সুখ ও মুক্তি প্রদানকারী এই উত্তম ব্রত পালন করা সকলেরই অবশ্য কর্তব্য। ভবিষোত্তরপুরাণে যুধিষ্ঠির-শ্রীকৃষ্ণ তথা নারদ-ব্রহ্মা সংবাদ রূপে একাদশীর এই মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।